kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

লকডাউন মানছে না রাজশাহী নগরবাসী

পাঁচ জেলায় শতাধিক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লকডাউন মানছে না রাজশাহী নগরবাসী

রাজশাহী নগরীসহ জেলায় গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে লকডাউন (অবরোধ) ঘোষণা করেছে প্রশাসন। কিন্তু লকডাউন মানছে না নগরবাসী। এদিকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, রাতে দোকান খোলা রাখা, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচ জেলায় শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার রাতে ও গতকাল মঙ্গলবার এসব অভিযান চালানো হয়।

একেবারে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গতকাল প্রায় দিনভর রাজশাহী নগরে দেখা গেছে বেশ কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। সাহেববাজার ও আরডিএ বাজারের সামনে ছিল বেশ ভিড়। পাশাপাশি অনেকেই বাড়ি থেকে বের হয়ে হেঁটে নানা কাজে যায়। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা দূরত্বও অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে যারা বাড়ি থেকে বের হয় তাদের দাবি, পেটের দায়ে বা জরুরি প্রয়োজনেই বের হয়েছে তারা। তাদের মধ্যে খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। গতকাল সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে দেখা যায়, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল আগের দিনের মতোই চলাচল করছে। পরে সকাল ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অনেককেই বাড়িতে ফেরত পাঠান। তবে অটোরিকশাচালক আকবর আলী বলেন, ‘ভাই রে, কত দিন বাড়িতে বসে থেকে খাব? আমাদের তো বসে থেকে খাওয়ার মতো টাকা নাই। আবার কাজ করে সংসার চালাতে পারি বলে কেউ ত্রাণও দেয় না। তাই ভয় থাকার পরেও পেটের দায়ে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছি।’ তাঁর মতো অন্য অটোরিকশাচালকদের কথা, তাঁদের তো কেউ ত্রাণ দেয় না। ফলে কাজ না করলে খেতে পাবেন না। তাই ঝুঁকি নিয়েই অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।

নাইমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বাড়ি থেকেই বের হইনি। কিন্তু বাড়ির বাজার ফুরিয়ে গেছে। তাই বাজার করতে বের হয়েছি।’ আরেক ব্যক্তি মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ সময় কেউ অযথা বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করবে বলে মনে হয় না। তার পরও হয়তো অনেকেই খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়াও বের হচ্ছেন। আমার বাড়ির বাজার শেষ হয়েছে, সে কারণে বের হয়েছি। তবে দূরত্ব বজায় রেখেই হাঁটছি।’

লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় অটোরিকশা, পিকআপ ও ট্রাকে যাত্রী পরিবহন, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, দোকান খোলা রাখা ও জনসমাগম সৃষ্টি করায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৫ জনকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করেন ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাশেদুল হক প্রধান জানান, এসব অভিযানে সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা করে। অন্যদিকে জেলার কালীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রাতে দোকান খোলা রাখার দায়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকায় চার দোকানিকে ১৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল সোমবার রাতে এ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডিতরা হলেন—গফরগাঁও চরালগী গ্রামের মো. তাজুল ইসলাম, ছয়বাড়িয়ার মো. রিয়াজ উদ্দিন, হবিরবাড়ির মো. খোকন মিয়া ও মো. দুলাল উদ্দিন।

গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সামাজিক দূরত্ব না মানা, দোকান খোলা রাখা ও সড়কে যানবাহন চালানোর দায়ে ৬০টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে এক লাখ পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলায় ১৫টি দলের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দীপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মিলনগঞ্জ বাজারে গতকাল সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ফাহমিদা অ্যান্ড হাবিব স্টোরকে ৫০০ টাকা ও ইমামবাড়ী বাজারে ফাতেমা ক্লথ স্টোরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মমিনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাসার বাইরে না আসতে আহ্বান জানান।

ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় গতকাল সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন দোকান খোলা রাখার দায়ে দোকানিকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, সাভার অনেক জনবহুল এলাকা। করোনাভাইরাস দেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও সাভার (ঢাকা) এবং লালমনিরহাট, গোপালগঞ্জ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) ও ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা