kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পরামর্শ ১৪ দলের শরিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারির ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ১৪ দলের কয়েকটি শরিক দল। গতকাল সোমবার তারা পৃথক বিবৃতিতে এ পরামর্শ দেয়।

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ করোনার অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এই প্রণোদনা প্রদানের উদ্দেশ্য যেন কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, হয়রানি ও দুর্নীতির কারণে ব্যাহত না হয় তার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

জাসদের এই নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও এ খাতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেননি। তাঁরা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা চাকরি হারালে তাঁদের এবং দেশে তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য আর্থিক বরাদ্দ প্রস্তুত রাখতে হবে। শহর-গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা জালের আওতায় আনতে হবে।

এক ভিডিও বার্তায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রবিবার যে পাঁচটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক যারা ২৭% মানুষ এবং গ্রামীণ যে দরিদ্র মানুষেরা প্রায় তিন কোটির ওপরে, তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সহায়তা করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি ব্যাপক সংকট সৃষ্টি ঠেকাতে হয়, তবে একদিকে যেমন জীবন বাঁচাতে হবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় নজর দিতে হবে, ঘরে ঘরে নিজেদের থাকতে হবে, তেমনি অন্যদিকে তার জীবিকাও বাঁচাতে হবে। না হলে তার পক্ষে কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হবে না।’

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ কম নয়। কিন্তু বিতরণব্যবস্থা কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে ক্রিয়াশীল থাকবে, সেটাই আসল কথা। সাহায্যসামগ্রী আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির বিষয়টি দেশের সর্বত্র খুবই আলোচিত। সেনাবাহনীকে এ ব্যাপারে কাজে লাগানো যায়।

বিবৃতিতে বলা হয় এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের জীবন রক্ষা। এ অচেনা এবং অদৃশ্য ঘাতককে মোকাবেলা সহজ কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রী সঠিক সময়ে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের কর্মের পরিধি এবং ক্ষেত্র সরকার সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছে কি না, তা বোঝা গেল না। যতটুকু বোধগম্য হচ্ছে, তাতে এ কথা বলা যায় যে এ রোগের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভেন্টিলেটরের অপ্রতুলতা মারাত্মক। এর জন্য আমাদের হয়তো সীমাহীন ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। করোনা মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কী প্রস্তুতি আমাদের আছে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন বলতে পারছেন না? প্রণোদনাকে জীবন বাঁচানোর জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে, মৃতদেহ সৎকারের জন্য নয়।

মন্তব্য