kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনা মোকাবেলা

কেরালার শক্তি সরকারে আস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কেরালার শক্তি সরকারে আস্থা

ভারতে নভেল করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় কেরালা রাজ্যে; গত ৩০ জানুয়ারি। সেখানে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো অনেক কারণ ছিল, কিন্তু সেটা ঘটেনি। ওই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেরালা কেন ঝুঁকিপূর্ণ এবং কেন সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাতে দেখা গেছে, রাজ্য সরকারের কয়েকটি উদ্যোগ সেখানে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

যেসব কারণে কেরালায় ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল, সেগুলোর একটি হলো—দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই রাজ্যে বছরজুড়ে হাজারো বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যাও সেখানে কম নয়। সর্বশেষ ইতালি থেকে অনেক ভারতীয় শ্রমিক কেরালায় ফেরে। আর কেরালায় প্রথম সংক্রমণও ঘটে ইতালিফেরত ব্যক্তির মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, কেরালায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। এ ছাড়া কেরালা ভারতের ব্যস্ত নগরীর একটি। ফলে দ্রুত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি সেখানে বেশি। তৃতীয়ত, কেরালায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অনেক। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, কেরালার জনসংখ্যা তিন কোটি ৩৬ লাখ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। এ ছাড়া ওই রাজ্যে প্রতিবছর বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়ে। করোনাভাইরাসে বয়স্কদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সেই হিসাবে কেরালা অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাজ্যটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার চতুর্থ কারণ হলো, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভারতের মধ্যে কেরালায় ছোঁয়াচে রোগ সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এসব ঝুঁকির পরও গতকাল পর্যন্ত কেরালায় কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১৪। কেরালার চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র (৬৯০), তামিলনাড়ু (৫৭১), দিল্লি (৫০৩) ও তেলেঙ্গানায় (৩২১)। মৃত্যুর হারও কেরালায় কম। সেখানে গতকাল পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮।

কেরালার প্রশংসা করতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যটি খুব দ্রুত ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। সেখানে শুরুতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নির্দেশনাকেন্দ্র (কমান্ড সেন্টার) খোলা হয়। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে নমুনা পরীক্ষার হার অনেক বাড়িয়ে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে কেরালায়। সূত্র : দি এশিয়ান এজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা