kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

গৃহহীনদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

জহিরুল ইসলাম   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহহীনদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলছে টানা সরকারি ছুটি। অঘোষিত লকডাউন হয়ে আছে রাজধানী ঢাকা। এর মাঝেও ত্রাণ নেওয়ার জন্য নগরের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। মোড়ে মোড়ে অবস্থান করা নিম্ন আয়ের এসব মানুষকে বারবারই বলা হচ্ছে বাসায় অবস্থান করতে। এর পরও অনন্যোপায় হয়েই তাঁরা কিছু পাওয়ার আশায় বারবার রাস্তায় ফিরে আসছেন।

গত ২৬ মার্চ থেকে কার্যত অচল রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অভাবী মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। তবে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা মানা হচ্ছে না প্রায় স্থানেই। আবার ছিন্নমূল মানুষকে খাদ্যপণ্য দিলেও অনেকেরই রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় তাদের কথা চিন্তা করে অনেক সংগঠন, ব্যক্তি ও পরিবার নিজেরা রান্না করে খাবার বিতরণ করছেন।

গতকাল রবিবার রাজধানীর লালবাগ কেল্লা, আজিমপুর বাস স্টপেজ, নীলক্ষেত মোড়, জিগাতলা, হাজারীবাগ, বনানীসহ কয়েকটি এলাকায় ছিন্নমূল দুস্থ মানুষের হাতে রান্না করা খাবার তুলে দিতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে রান্না করা খাবার রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান করা মানুষের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।

কেল্লার মোড় এলাকায় এক বাসার সামনে বস্তায় করে বিরিয়ানির প্যাকেট এনে বিতরণ করছিলেন রহমতুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘মানুষ চাল-ডাল দিচ্ছে। কিন্তু এগুলো রান্না করে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই অনেকের। তাই বাসার সবাই মিলে কিছু মানুষের খাবার রান্না করে বের হয়েছি। এদিক দিয়ে গরিব-দুঃখী মানুষ যেতে দেখলে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি।’

কণ্ঠশিল্পী সালমা ও সাগর দম্পতি দুপুরের দিকে তাঁদের ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে রাজধানীর হাজারীবাগ ও জিগাতলা এলাকার ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। জানা যায়, গৃহহীন মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাফিয়া ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে সালমা বলেন, ‘পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার গৃহহীন অসহায় মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যত দিন করোনা পরিস্থিতি থাকে।’

সালমা আরো বলেন, ‘রান্না করা খাবার বিতরণের পাশাপাশি আমরা অসচ্ছল পরিবারের বাচ্চাদের মধ্যে নিয়মিত দুধ বিতরণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিন-চার দিনের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করব। এটি অবশ্য আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিতে পারছি না।’ জানা যায়, গাড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে প্রতিদিন গৃহহীন ৫০ জন লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে মিরপুর-১৪ ও কচুক্ষেত এলাকায় গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের খাওয়াতে দেখা যায়। জানা যায়, গত শনিবার থেকে বনানী এলাকার কয়েকজনের উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় তিন শ মানুষকে এক বেলার খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসার বাজার করতে গিয়ে কয়েকজন মানুষকে ভাগাড়ে খাবার খুঁজতে দেখে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। এর পরই আমরা দুজন সেদিন ৩৬ জনকে খাইয়েছি। পরে বেশ কয়েকজন বড় ভাই ও আমরা মিলে একসঙ্গে কাজ শুরু করি। এখন প্রতিদিন প্রায় তিন শ মানুষকে এক বেলা করে খাওয়াচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা