kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

চট্টগ্রামে ৩৭৭ কারখানায় চলেছে উৎপাদন

হাত ধুইয়ে দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে ৩৭৭ কারখানায় চলেছে উৎপাদন

দেশব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে ভীতির মধ্যেও চট্টগ্রাম জেলায় এক হাজার ২২৯টি শিল্প-কারখানার মধ্যে ৩৭৭টিতে গতকাল রবিবার উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। এর মধ্যে ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানা, বাকি ১৯০টি অন্যান্য খাতের।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে অনেক শিল্প-কারখানা চালু থাকায় জনমনে ভীতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও চালু থাকা পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিজিএমইএ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বানটি শনিবার অনেক রাতে আসায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ সোমবার অনেক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ৭১১টি। যদিও তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে চট্টগ্রামে চালু কারখানা ৩৬৯টি। অবশ্য শিল্প পুলিশের তালিকায় বিকেএমইএর তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোও রয়েছে। দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম ইপিজেডে গতকাল ১৪৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৯টি, অন্য খাতের ১১টি এবং বায়েজিদ বোস্তামী শিল্প এলাকায় ৯৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৪৮টি চালু ছিল।

চট্টগ্রাম জেলায় পোশাক কারখানার বাইরে (নন-আরএমজি) আরো কারখানা আছে ৫১৮টি। এর মধ্যে গতকাল খোলা ছিল ১৯০টি। সীতাকুণ্ড উপজেলায় ১১৮টি শিল্প-কারখানার মধ্যে গতকাল ৭১টিতে উৎপাদন সচল ছিল। বায়েজিদ বোস্তামীতে ৮২টি শিল্প-কারখানার মধ্যে ৪২টিতে পুরোদমে কাজ চলেছে।

শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করানোর নির্দেশনা থাকলেও বেশির ভাগ কারখানা শুধু কারখানায় ঢোকানোর মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে দায় সেরেছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মরত দুই লাখ শ্রমিকের মধ্যে গতকাল প্রায় ৯০ হাজার উপস্থিত ছিল। সকাল ৮টার মধ্যে দলবেঁধে এই শ্রমিকরা একটি মাত্র গেট দিয়ে ইপিজেডে প্রবেশ করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুরক্ষা বলতে শ্রমিকদের মূলত কারখানায় প্রবেশের সময় হাত ধোয়ানোর ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অনেক শ্রমিককে মাস্ক পরতে দেখেছি। তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার যে নির্দেশনা তা আসলে চাইলেও শ্রমঘন এলাকায় মেনে চলা সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম ইপিজেডের এক কর্মকর্তা বলেন, “দেশের পরিস্থিতি বিদেশিদের (বিনিয়োগকারী) বুঝাতে কষ্ট হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতির গতকাল (শনিবার) রাতের আহ্বানের প্রসঙ্গটি তুললে তাঁরা উল্টো আমাদের বলেন, ‘তোমাদের মন্ত্রী তো ভিন্ন কথা বলেছেন। তোমরা বিভ্রান্তকর তথ্য দিচ্ছ কেন’?”

এর আগে কারখানা খোলা রাখতে হলে সাত দফা সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার সার্কুলার জারি করেছিল বেপজা। গতকাল কর্ণফুলী ইপিজেডে ১৫টি কারখানা পুরোপুরি খোলা ছিল জানিয়ে এই ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, ‘আরো ১৮টি কারখানা শিপমেন্ট অর্ডার কমপ্লিট করার জন্য আংশিক খোলা রেখেছিল। আজ কর্ণফুলী ইপিজেডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক (২৫ হাজার) উপস্থিত ছিলেন।’ তবে অনেক কারখানা সোমবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডের অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রামের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয় ইপিজেড এলাকাকে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কিছুদিন আগে ইপিজেড এলাকাকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেন। চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খুরশিদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান মালিকদের বুঝিয়েছি, যেহেতু এটা একটি জাতীয় দুর্যোগ, তাই সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করতে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৬৫টি কারখানা বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। অনেকে একটু সময় চেয়েছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য। এ জন্য ইপিজেড পুরোপুরি বন্ধ হতে আরো দু-এক দিন সময় লাগতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা