kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

‘পুলিশ কোয়ারেন্টিনে গেলে মানুষকে সেবা দেবে কে’

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পুলিশ কোয়ারেন্টিনে গেলে মানুষকে সেবা দেবে কে’

‘পুলিশ যদি হোম কোয়ারেন্টিনে যায় তাহলে দেশ চলবে কিভাবে, সাধারণ মানুষকে সেবা দেবে কে? আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিভাবে? বাস্তবতা মেনে নিয়ে দেশের মানুষকে সেবা দিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি। এটাই আমাদের সুরক্ষা। তবে যেভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আমাদের জন্য পিপিইর (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

এভাবেই গতকাল বলছিলেন করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের কনস্টেবল গাউজ মিয়া। এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় প্রধান সড়কে দায়িত্ব পালনকারী এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দেশ তো আমার আপনার সবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের পাশে আছেন তাতে একটু ঝুঁকি থাকলেও আমরা মাঠে আছি। দেশ যতক্ষণ পর্যন্ত করোনাভাইরাসমুক্ত হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পুলিশ মানুষকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে থাকবে।’ 

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লক্ষাধিক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সারা দেশে মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছেন। এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে তাঁদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতার পাশাপাশি মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের প্রথম দিন থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রতিটি থানায় স্বপ্রণোদিত হয়ে সেবাপ্রার্থীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাস্ক পরে রাস্তায় থাকতে এবং প্রত্যেক সদস্যকে এক ঘণ্টা পর পর হ্যান্ড ওয়াশ বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য নন, আনসার, বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নানা ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার। পুলিশ লাইন, থানা ও ফাঁড়িতে প্রবেশের আগে যেকোনো দর্শনার্থীকে হাত পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দেশের সব কারাগারে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও কারা সূত্রের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই আলোকে মাঠপর্যায়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নজর রাখতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সংক্রমিত দেশ থেকে যাঁরা বাংলাদেশে ফিরেছেন, তাঁরা করোনাভাইরাসের বিষয় লুকাচ্ছেন কি না। ভাইরাসটির বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে সরকারবিরোধীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনাভাইরাসের বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে এবং পুলিশ সদস্যদের নিজেদেরও সচেতন থাকতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সারা দেশে র‌্যাব সদস্যদের গণসমাবেশ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা