kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

বিশেষ প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে ঘরে থাকতে বলা হলেও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু রাখা হয়েছে। কর্মসূচিতে নিয়োজিত ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এ কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করা হবে, সে সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি; পৌঁছানো হয়নি কোনো নিরাপত্তা সামগ্রীও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইপিআইয়ের আওতায় সারা দেশে মা ও শিশুকে ১০টি সংক্রামক রোগের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার কেন্দ্রে এ কর্মসূচি চলে। সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের স্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরে সারা দেশে এক লাখ ২০ হাজার টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। কেন্দ্রগুলো অস্থায়ী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তিবিশেষের বাসাবাড়িতে অবস্থিত। এ অবস্থায় ওই সব বাড়ির লোকজন বহিরাগতদের সমাগমে বিব্রত বোধ করছে।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আনসারী বলেন, ‘ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। নিরাপদ দূরত্ব তিন ফুট বজায় রেখে ইপিআই কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া এ কাজে নিয়োজিতদের কোনো ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। এতে স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাঁদের মাধ্যমে গর্ভবতী নারীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের যেখানে একটি মাস্ক ছাড়া কিছুই নেই, সেখানে তাঁরা নিজেরা কিভাবে সুরক্ষিত থাকবেন বা তাঁদের কাছে আসা মা ও শিশুরা সুরক্ষিত থাকবেন?’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মা ও শিশু) ডা. সামসুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। আমরা কেন্দ্র থেকেও সরবরাহের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হলে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি ভাবা হবে।’

ইপিআইয়ের প্রগ্রাম ম্যানেজার ডা. মৌলা বক্স চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই এটি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বন্ধ করলে শিশুদের সুরক্ষা ও লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’

আব্দুল্লাহ আল আনসারী আরো বলেন, ‘ইপিআই সচল রাখতে গিয়ে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হলে কেন্দ্রে আপাতত টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত রাখাই শ্রেয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা