kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার, নেই অংশগ্রহণের সুযোগ

অন্য দেশে গুগল ক্লাসরুম জুম, হ্যাংআউট, স্কাইপসহ নানা প্রযুক্তিতে নেওয়া হচ্ছে ক্লাস

শরীফুল আলম সুমন   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার, নেই অংশগ্রহণের সুযোগ

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের ১৮৫ দেশে জাতীয়ভাবেই বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৫৪ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। তবে প্রায় সব দেশই অনলাইনে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রেখেছে।

অবশ্য বাংলাদেশে টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার করা হলেও বিশ্বের অন্য দেশে গুগল ক্লাসরুম, জুম, হ্যাংআউট, স্কাইপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাইভ ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পেজ বা গ্রুপে সব সময়ের জন্য চলে লেখাপড়া।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাবার্তার আদান-প্রদান ছাড়া আনন্দময় শিক্ষা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে তাতে শিক্ষকের সঙ্গে কথাবার্তা আদান-প্রদান সম্ভব নয়। শিক্ষক যা বোঝালেন তা না বুঝলেও কিছু করার নেই। কিন্তু গুগল ক্লাসরুম, জুমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষককে প্রশ্ন করার সুযোগ আছে। এরপর শিক্ষক বিষয়টি বুঝিয়েও দিতে পারেন।

দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের উদ্যোগে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও টিভিতে ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লাইভ ক্লাস প্রচারে নিজ নিজ স্কুলকে উদ্যোগী হতে হবে। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষকরা তাঁদের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসের ব্যবস্থা করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছে। এই ক্লাসরুমের জন্য ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট সংযুক্তিসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। শিক্ষকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করেই লাইভ ক্লাসরুম প্রচার করা সম্ভব। এ ছাড়া শিক্ষকরা যার যার মোবাইলে নিজ নিজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদের অভিভাবককে যুক্ত করে পড়ালেখা আদান-প্রদান করতে পারেন।

তানজিয়া খান নামে এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘জুম অ্যাপ ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া যায়। ক্লাসের ভিডিও রেকর্ডটা ওয়েবসাইটে দিয়ে দিলে সবাই পেয়ে যাবে।’ স্পেন ও সুইডেন থেকেও প্রবাসী বাঙালিরা লিখেছেন, তাঁদের ওখানেও অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু অন্য দেশগুলোতে টিভিতে ক্লাস প্রচারের কথা জানা যায়নি।

ইতালি থেকে একজন অভিভাবক জানান, তাঁর শিশু সন্তান রোমের একটি স্কুলে পড়ে। প্রতিটি বিষয়ের শিক্ষকের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ আছে। ওই গ্রুপে সব অভিভাবক যুক্ত আছেন। সেখানে পড়ালেখা দেওয়া-নেওয়া হচ্ছে। কোনো অভিভাবকের প্রশ্ন থাকলে তা লিখছেন। শিক্ষকরা এর উত্তর দিচ্ছেন। অর্থাৎ শিক্ষকের সঙ্গে সব সময়ের জন্য যোগাযোগ হচ্ছে।’

তবে বাংলাদেশেও স্বল্পসংখ্যক বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের নানা মাধ্যমে ক্লাস নিচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘আমরা ছেলে বাসায় বসেই ক্লাস করছে। অ্যাসাইনমেন্ট, ডিজাইন সব কিছুই অনলাইনে সাবমিটও করছে।’

ছায়ানট পরিচালিত নালন্দা বিদ্যালয় চালু করেছে গুগল ক্লাস। এই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক বহ্নি ব্যাপারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুল থেকে আমাদের এক দিন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তারপর আমরা মেইল ও ফোন করে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অনলাইনে যুক্ত হতে বলেছি। এখন অনলাইনে পড়া দেওয়া হচ্ছে। কিছু প্রেজেনটেশন, ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তারা হোম ওয়ার্ক পাঠাচ্ছেন।’ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে করোনাভাইরাসের যে পরিস্থিতি তাতে ঈদের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা