kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ আষাঢ় ১৪২৭। ২ জুলাই ২০২০। ১০ জিলকদ  ১৪৪১

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গণমাধ্যম নেতাদের বৈঠক

সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সংকট নিরসনে সরকারি সহায়তায় গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় গণমাধ্যম ও সরকার আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল মিন্টো রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গণমাধ্যমের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা কমে গেছে। কোনোটা অর্ধেকে নেমেছে, কোনোটা আরো কমেছে। হকার ও সংবাদপত্রে যাঁরা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তাঁরা নানা সমস্যায় পড়েছেন। টেলিভিশনেও কিছু সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যাগুলো মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে কী কী করা যায়, তাঁদের পাওনা বিলগুলো যাতে আমরা তাড়াতাড়ি দিতে পারি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

বৈঠকে অংশ নেন নিউজপেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মতিউর রহমান ও তারিক সুজাত, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ও এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, অ্যাটকোর অন্যতম পরিচালক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাহানারা পারভীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

করোনা সংকট মোকাবেলা এবং এই সংকটের কারণে গণমাধ্যমে নতুনভাবে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে ঐকমত্যের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক দুর্যোগের এ সময় আমাদের দেশও করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকেনি। এই প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মালিক, সম্পাদক পরিষদ ও এডিটরস গিল্ড  নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষকে অবহিত ও সতর্ক করা, সঠিক চিত্র তুলে ধরা ও সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। সরকার ও গণমাধ্যমসহ আমরা সকলে যাতে একসঙ্গে কাজ করে এ সংকট থেকে উত্তরণ লাভ করতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি, বৈশ্বিক দুর্যোগের এ সময় অবশ্যই আমরা সবাই একযোগে কাজ করব।’

জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতেও আমরা দেখেছি, এমন দুর্যোগের সময় নানা ধরনের গুজব রটানো হয়, কিছু অনলাইন পোর্টাল থেকে মানুষকে আতঙ্কিত করতে ভুয়া সংবাদ পরিবেশিত হয়। এই গুজব ও মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ভূমিকা রাখতে পারে এবং রাখছে। সরকারও তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কিভাবে আরো জোরালো ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা মূলধারার গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছি।’

বৈঠক শেষে বিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম সংকট উত্তরণে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ও গণমাধ্যম ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখছে এবং রাখবে। সংবাদপত্রশিল্পের স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পত্রিকাগুলোর পাওনা বিলগুলো দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানান তিনি।

মন্তব্য