kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

ব্যাংকগুলো প্রস্তুত আছে শঙ্কাও

কাল থেকে এক অঙ্কের সুদহার

জিয়াদুল ইসলাম   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবশেষে কার্যকর হতে যাচ্ছে ঋণের এক অঙ্কের সুদহার। আগামীকাল বুধবার থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঋণের এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরে তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তারল্য সংকট থাকায় এক অঙ্কের সুদে ঋণ বিতরণ ব্যাংকগুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। এ ছাড়া করোনার কারণে আপাতত ঋণের চাহিদাও কম হবে। সব মিলে ঋণ বিতরণ ব্যাহত হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে শুধু এক অঙ্কের সুদে ঋণ বিতরণ করলেই হবে না, এ সংকটের সময় আগের ঋণের সুদের হারও স্থগিত রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ঋণের এক অঙ্কের সুদ কার্যকরের জন্য ব্যাংকগুলোকে এরই মধ্যে আরো কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নগদ জমার হার (সিআরআর) ও রেপো রেট কমানো হয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৯ শতাংশ সুদ বেঁধে দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ঋণটি খেলাপি হলে অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। তবে আমানতের সুদহার নিয়ে কোনো সার্কুলার জারি করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো আমানতের সুদ দেওয়ার সুযোগ পাবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখার কালের কণ্ঠকে বলেন, ১ এপ্রিল থেকে ঋণের এক অঙ্কের সুদহার আমরা বাস্তবায়ন করব। এ জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও আছে।’

ব্যাংকিং খাতে এখন তারল্য সংকট আছে, তাই ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরে কোনো সমস্যা দেখছেন কি না জানতে চাইলে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর সঙ্গে তারল্য সংকটের কী সম্পর্ক? আমাদের ঋণের সুদ কমাতে হবে এবং এর জন্য সব রকমের প্রস্তুতি আছে। যেসব ঋণের সুদ ৯ শতাংশের বেশি, সেগুলো ৯ শতাংশে আমরা নামিয়ে আনব?।’

৬ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলো আমানত পাচ্ছে কি না জানতে চাইলে আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘এখনো কোনো কোনো ব্যাংকে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের বেশি রয়েছে। কারো ৬, আবার কারো সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ বা তার বেশি। এটা নিয়ে যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সার্কুলার হয়নি, তাই আমানতের সুদহার ব্যাংক টু ব্যাংক ভেরি করবে।’

সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি এম কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ঋণের এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার ব্যাংকের সব শাখায় এ বিষয়ে আজ নির্দেশনা পাঠানো হবে।’ তিনি মনে করেন, এখনই তা কার্যকরের প্রকৃত সময়। করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ব্যবসায়ীদের কম সুদের ঋণের খুব প্রয়োজন। কম সুদে ঋণ না দিলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলো এমনিতেই সংকটে আছে। কারণ তারা ৬ শতাংশ সুদে আমানত পাচ্ছে না। কিন্তু ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে তাদের ঋণ ও আমানতের অনুপাত (এডিআর) ঠিকই মেনে চলতে হবে। ফলে ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর হলেও তারল্য সংকটে ঋণ বিতরণ ব্যাহত হবে।’ এ ছাড়া করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা এখন উৎপাদনে যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারছে না। অনেক শ্রমিকের চাকরি গেছে। ফলে ঋণের চাহিদা কম হবে। অর্থাৎ ছয়-নয় যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল সেটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঋণের সুুদহার ৯ শতাংশ কার্যকরে ব্যাংকগুলোর কিছুটা সমস্যা হবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এরই মধ্যে সিআরআর এবং রেপো রেট কমানো হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড কিছুটা কমবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি মনে করেন, করোনার কারণে এখন ব্যবসায়ীদের কম সুদের ঋণ খুব প্রয়োজন। ৯ শতাংশ সুদ ব্যবসায়ীদের কিছুটা হলেও সুবিধা দেবে। পাশাপাশি করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীদের আরো নীতি-সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সমিতি বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঋণের এক অঙ্কের সুদহার কার্যকরে কোনো বাধা আছে বলে মনে করি না।’ তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ব্যাংক থেকে বিনা সুদের ঋণ দরকার। আগের ঋণের সুদও স্থগিত রাখা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা