kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

শিবগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, দাফনে বাধা

ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার আবেগঘন স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিবগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, দাফনে বাধা

করোনাভাইরাস মানুষের মনে সীমাহীন সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই সন্দেহ থেকে তৈরি হচ্ছে ভয়। কখনো কখনো এই ভয় মানুষকে করে তুলছে নির্মম-নিষ্ঠুর। মানবিকতার লেশমাত্র থাকছে না মানুষের মধ্যে। এমনই একটি নির্মম ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন নিয়ে। এলাকার মানুষ ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফনে বাধা দেয়। পরে পুলিশ পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি জমিতে ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফন করে।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের সোবাহানপুর গ্রামে পীরের মাজারের পাশে সরকারি জমিতে ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফন করা হয়।

গত শনিবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে স্ত্রীর কর্মস্থলে ভাড়া বাসায় মারা যান ওই ব্যক্তি। করোনা উপসর্গ নিয়ে গাজীপুর থেকে গত মঙ্গলবার তিনি শিবগঞ্জে এসেছিলেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার ১০টি বাড়ি লকডাউন করে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। কিন্তু শনিবার বিকেলের দিকে মরদেহ দাফন নিয়ে দেখা দেয় অচলাবস্থা। গ্রামের লোকজন সেখানে লাশ দাফনে আপত্তি জানায়।

ময়দানহাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম রূপম জানান, যে বাড়িতে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে সোবাহানপুরে পীরের মাজারের পাশে কবর খনন শুরু করা হয়। এ সময় ময়দানহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাউল হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য সুজাউদ দৌলার নেতৃত্বে গ্রামবাসী কবর খননে বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিকেল ৪টায় ওই গ্রামে দুই প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবীর ও থানার ওসি মিজানুর রহমান সেখানে যান। পুলিশ গ্রামের লোকজনকে ঝুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তিনজন গ্রাম পুলিশ ও হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয়ের সহযোগিতায় রাতে মরদেহ দাফন করা হয়।

এদিকে নিহত ব্যক্তির লাশ দাফন নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস  দিয়েছেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। দাফন শেষে বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার খুদরত-ই-খুদা শুভ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘একটি লাশ দাফন করে এভাবে স্ট্যাটাস দিতে হবে কখনো ভাবিনি। মানুষের মধ্যে মানবিকতা জাগাতে এতটা গলদঘর্ম হতে হবে, জানা ছিল না। সকাল থেকে নানা বাধা-বিপত্তি, নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে রাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশের উদ্যোগে লাশের দাফন সম্পন্ন করা হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা