kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

চট্টগ্রামে মানুষের পাশে নেই বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে মানুষের পাশে নেই বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ২১ মার্চ নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচন স্থগিত করে। করোনাভাইরাস আক্রান্তের ঝুঁকির মধ্যেও ৯ মার্চ থেকে শুরু করে নির্বাচন স্থগিতের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতিসহ নির্বাচিত হলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসের ফুলঝুরিও ছিল। কিন্তু এখন তাঁদের বেশির ভাগেরই কোনো খবর নেই। গতকাল রবিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

নির্বাচন স্থগিত হলেও নগরজুড়ে প্রার্থীদের পোস্টারসহ নির্বাচনী প্রচারপত্র রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত ও সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহীসহ) মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থী অনেকের এখন দেখা নেই। শুধু স্থগিত হওয়া চসিক নির্বাচনের প্রার্থী নন, অসহায়-গরিব মানুষের পাশে রাজনৈতিক দল-সংগঠনের নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকে দেখা যাচ্ছে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জনগণের পাশে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন ব্যক্তি বলেন, বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের কথা বাদ দিলেও আওয়ামী লীগ ও তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট-মহাজোটের নেতারা চট্টগ্রামে দুস্থ-অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়ানোটা দুঃখজনক।

কয়েক দিন ধরে নগরের বিভিন্ন সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জীবাণুনাশক পানি ছিটানো হচ্ছে। মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সড়কে পানি ছিটাতে দেখা যাচ্ছে। কাউন্সিলরদের মাধ্যমে দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পাঠাচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিমও নগরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিজ উদ্যোগে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করছেন। বিএনপি সমর্থিত সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকেও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক বিতরণ ও খাবার সরবরাহ করছেন।

চট্টগ্রামে বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে জনগণের পাশে দেখা না যাওয়ার বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিপদে বন্ধুর পরিচয়। মধু ও মাখন খেতে যাঁরা এসেছেন তাঁদের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দায়বদ্ধতা থাকলে তো সবাই মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন তাহলে জনগণের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা থাকত। তবে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কেউ কেউ নীরবে কাজ করছেন। কিন্তু সেভাবে হয়তো প্রচারিত হচ্ছে না। তবে সাধারণ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে বিএনপির এই নেতা দাবি করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা