kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

দেশে পা রেখেই ‘হাওয়া’ প্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে পা রেখেই ‘হাওয়া’ প্রবাসী

হোম কোয়ারেন্টিনের ছক এড়াতে বিদেশ থেকে ফিরেই যেন হাওয়া হয়ে যান প্রবাসীরা। গত এক মাসে বিদেশফেরত অর্ধেক প্রবাসীরই হদিস নেই। পুলিশও তাঁদের খুঁজে পাচ্ছে না। তাঁদের খোঁজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এখনো চলছে। বিদেশ থেকে আসার পর যাঁদের চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছিল, তাঁরাও নির্দেশনা না মেনে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মুখে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ঘরবন্দি হতে বাধ্য হন। সম্প্রতি যেসব প্রবাসী দেশে ফিরেছেন তাঁদের স্থানীয় থানায় অবগত করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পুলিশের নির্দেশনা থাকলেও তা কেউ মানেননি। উল্টো পুলিশই প্রবাসীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের খুঁজে বের করে।

এদিকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নিয়ম মেনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনও তাঁদের কাছে আসছে না। এ অবস্থায় অনেকটা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেটের বিশ্বনাথ। এ উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাস করেন। এরই মধ্যে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরলেও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ৯০ জন।

বিভিন্ন দেশ থেকে গত এক মাসে নোয়াখালীর ছয় হাজার ৮৯১ জন প্রবাসী দেশে এলেও এর মধ্যে তিন হাজার ১২৫ জনকে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। নোয়াখালী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআই-১) ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বিদেশফেরতদের মধ্যে আমরা অর্ধেককে পাইনি, তার পরও তাঁদের খোঁজ নিচ্ছি। মূলত পাসপোর্টের ঠিকানার ভিত্তিতে তাঁদের খোঁজা হয়, অনেকের পাসপোর্টের ঠিকানা পরিবর্তন হওয়ার কারণে তাঁদের খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।’

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৭৭ জন প্রবাসী এলেও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ৭৯ জন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে উপজেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

রাজশাহীতে গত ২০ মার্চের আগের ১৫ দিনে সব মিলিয়ে দুই হাজার ১২২ জন প্রবাসী দেশে ফেরেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে এখনো অনেকেরই বাড়ির ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁরা ইচ্ছামতো বাইরে বের হয়ে ঘোরাফেরা করেছেন। এর মধ্যে নগরীর ৮০৯ জনের মধ্যে ২৭ জনের কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

শেরপুরে বিদেশফেরতদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন, পুলিশ ও স্থাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বিদেশফেরতদের তালিকা ধরে ধরে তাঁরা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছেন কি না সে ব্যাপারে কঠোরভাবে তদারকি করছে। জেলায় বিদেশফেরত ৫৩৮ জনের মধ্যে ৩৮৫ জনের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। বাকিরা শেরপুরের বাইরে থাকায় তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

লক্ষ্মীপুরে সম্প্রতি তিন হাজার ৯৫১ জন প্রবাসী দেশে ফেরেন। এর মধ্যে এক হাজার ৩২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা গেছে। অন্যদের হদিস মেলেনি।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২৪৫ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।

বিভিন্ন দেশ থেকে গত এক মাসে মাদারীপুরে তিন হাজারের বেশি প্রবাসী এসেছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রবাসীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্টে যে ঠিকানা দেওয়া আছে, সেখানে খোঁজ নিয়েও তাঁদের পাওয়া যায়নি। বিভিন্নভাবে তাঁদের খোঁজ চলছে।

এদিকে একজন প্রবাসীও সুনামগঞ্জের কোনো থানায় দেশে আসার তথ্য দেননি। বরং পুলিশই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই হাজার ৩৭০ জন প্রবাসীর তথ্য সংগ্রহ করেছে। গত ১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রবাসী সুনামগঞ্জে এসেছেন। এর পরে যাঁরা এসেছেন তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে দেশের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের অনেকেরই খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ। ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী ৭১৩ জন দেশের বাইরে থেকে ওই দুই উপজেলায় এসেছেন। অথচ পুলিশ ৫৩৭ জন প্রবাসীর সন্ধান পেয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে গত দুই সপ্তাহে ১৩৪ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে ফুলপুরে আসেন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩৯ জন। বাকি ৯৫ প্রবাসীর কোনো হদিস নেই। নেত্রকোনার বারহাট্টায় মার্চের শুরু থেকে ৪৬ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ১১ জন বারহাট্টার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিরা ]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা