kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

চাল-ডাল নিয়ে দরিদ্রদের পাশে তিন কন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাল-ডাল নিয়ে দরিদ্রদের পাশে তিন কন্যা

ডা. নিশাতের ইচ্ছা চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নেবেন ইংল্যান্ড থেকে। ওখানে গিয়ে কিছু পরীক্ষা দিয়ে করোনা মহামারির আগে দেশে ফিরেছেন। কয়েক মাসের জন্য একটি হাসপাতালে চাকরিও নিয়েছেন। বাস করেন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। তাঁর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকেন অন্য দুই বান্ধবী শাকিলা আর সামিনা। তিনজনই শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে তাঁরা ঘরবন্দি। বলা চলে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে।

সুনসান বসুন্ধরা এলাকা। রিকশায় হাসপাতাল, বাজার বা জরুরি স্থানে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন তিন বান্ধবী। বর্তমানে এলাকায় আগের মতো রিকশা নেই। গুটিকয় যে কয়জন রিকশাওয়ালা আছেন, তাঁদের অবস্থা শোচনীয়। মানুষ ঘর থেকে বের হয় না বলে যাত্রী নেই। ফলে রোজগারও নেই। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষগুলোর ঘরে এখন তাই খাবারও নেই। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঘর থেকে বেরিয়েছেন তিন কন্যা।

ডা. নিশাত আর শাকিলা বলেন, আমরা কাজটি করার সময় নিজেদের ছবি তুলব, এটা চিন্তা করিনি। একজন (ফটো সাংবাদিক) ছবি তুলেছেন। লজ্জা লেগেছে তখন। আবার যে ভ্যানে চড়ে ঘুরেছি, সেই ভ্যানওয়ালাকে শেষ খাবারের প্যাকেটটা যখন দিচ্ছিলাম উৎসাহী হয়ে কেউ একজন ছবি তুলেছেন।

শাকিলা আর সামিনা বলেন, মূল পরিকল্পনাটা ডা. নিশাতের। হাসপাতালে চাকরি করে নিশাত যে বেতন পায়, তার একটা অংশ এখানকার খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আলাদা করে সে। আমরা অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে পারিনি, তবে এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছি।

তিন বন্ধু মিলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাজারে যান। চাল, ডাল, আলু আর হাত ধোয়ার সাবান কেনেন। সঙ্গে বাজার থেকে একটা ওজন মাপার যন্ত্র কিনে তবেই বাসায় ফেরেন। রাতে মাপজোক হলো। পণ্যগুলো আলাদা আলাদা প্যাকেটে ভরে সব মিলিয়ে একটা বড় প্যাকেট হলো। আলাদা প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে তিন কেজি চাল, এক কেজি ডাল, দুই কেজি আলু আর একটি হাত ধোয়ার সাবান। সব মিলিয়ে ৩০টি প্যাকেট। একটা ভ্যানও ঠিক করলেন তাঁরা। আর গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্যাকেটগুলো নিয়ে রাস্তায় বের হলেন তিন কন্যা।

পরিকল্পনা ছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেট, ঘাটপাড় আর অ্যাপোলো গেটের দিকে চক্কর দিয়ে বুঝেশুনে বাছাই করে প্রতিজনকে একটি করে প্যাকেট দেবেন। তবে তাঁদের বেশি দূর যেতে হলো না। অভাবী মানুষগুলো মুহূর্তে ছুটে এসে ভ্যানের চারপাশ ঘিরে ধরল। চোখের পলকে শেষ হয়ে যায় প্যাকেটগুলো।

ডা. নিশাত বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এই এলাকায় থাকি। আমি দেখিছি, এখানকার রিকশাওয়ালাদের উপার্জনের ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যাত্রীদের বড় অংশ এই শিক্ষার্থীরাই। এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ। মনে হলো, এদের জন্য যদি কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা যেত! সামর্থ্য অনুযায়ী তাই এটা করলাম। শাকিলা আর সামিনা অনেক হেল্প করেছে। ওদের ছাড়া আমি একা কাজটি করতে পারতাম না।’

মন্তব্য