kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

করোনায় কপাল পুড়েছে কৃষকের

নীলফামারীতে বেগুনের কেজি ২-৫ টাকা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার দেড় বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের উত্তর কানিয়ালখাতা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান (৫০)। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রতিটি ৫০ কেজির পাঁচ বস্তা বেগুন এনেছিলেন নীলফামারী শহরের বড়বাজারে বিক্রি করতে। দুপুর পর্যন্ত কিছু বিক্রি করেছেন পাইকারি দুই টাকা কেজি দরে। কিছু খুচরা বিক্রি করেছেন তিন টাকা দরে।

জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছর দেড় বিঘা জমির বেগুন বিক্রি করে আয় করেছিলাম দেড় লাখ টাকা। এবারের পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব হবে না।’

একই গ্রামের কৃষক মো. ছকিমদিন (৫৫), সামসুল হকসহ (৫৬) শতাধিক কৃষকের অবস্থাও এমন। তাঁরা বলছিলেন, শাক-সবজি কাঁচা পণ্য হওয়ায় ফলন আসার সময়ই বিক্রি করতে হয়। এ সময়ে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ায় তাঁদের কপাল পুড়েছে। এখন যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে পরিবহন খরচও উঠছে না।

গতকাল দুপুরে শহরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা, খিরা পাঁচ টাকা, টমেটো ১৫-২০ টাকা, বিভিন্ন জাতের আলু ১৫-২২ টাকা, মরিচ ২৫-৩০ টাকা, করলা ২৫-৩০ টাকা এবং বেগুন দুই-পাঁচ টাকা টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দামে সস্তা হলেও দোকানগুলো ছিল ক্রেতাশূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

গ্রাম থেকে শাক-সবজি সংগ্রহ করে বড়বাজারে এনে বিক্রি করেন পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বাজিতপাড়ার জামিয়ার রহমান (৫৫)। তাঁর এ আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের ৯ সদস্য। করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতা না থাকায় থমকে গেছে জীবিকা। অন্যান্য দিন ওই বাজারে দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁর দোকানের শাক-সবজি বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু গতকাল ক্রেতার দেখা মিলেছে খুবই কম।

দুপুর আড়াইটায় দোকানে বসে তিনি বলছিলেন, ‘প্রতিদিন ব্যবসা করে আয় করি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। তাতেই চলে আমার পরিবারের খাওয়া খরচ। গত তিন দিন ধরে ক্রেতা কম থাকায় আমার আয় হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ টাকায় আমার সংসার চলে না।’

ওই বাজারের বড় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম জানান, পাইকারি বাজারে প্রতিদিন শাক-সবজির আমদানি প্রচুর। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। ফলে অনেকে শাক-সবজি বাজারে এনে ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। পাইকাররা যখন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছে না তখন বাজারেই রেখে চলে যাচ্ছে। এমন মন্দাভাবে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক। তিনি বলছিলেন, ‘দাম বেশি কমেছে দ্রুত পচনশীল সবজির। এসবের মধ্যে রয়েছে বেগুন, শসা, খিরা, টমেটো, লাউ, শিম, মরিচ, আলু ও বিভিন্ন জাতের শাক।

বড়বাজারের শাক-সবজির আড়তদার মোহাম্মদ মাহমুদ আলী বকুল বলেন, ‘বাজারে মৌসুমি সবজির আমদানি পরিমাণমতোই আছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বাজার প্রায় ক্রেতাশূন্য। এতে উৎপাদনকারী কৃষক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

মন্তব্য