kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে শিশু নিহত

গুরুতর আহত মা বাবা ও ভাই-বোন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে দেয়ালচাপা পড়ে সাত মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে শিশুটির মা-বাবা ও দুই ভাই-বোন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এই চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে বাবুরাইল তাঁতীপাড়ার বটতলা এলাকায় বাদশা হাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম আহাম্মদ হোসেন। আহতরা হলেন বাদশা হাজির ভাড়াটিয়া এলাকার ইট-বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন (৫০), তাঁর (তোফাজ্জল) স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম (৩০), মেয়ে হালিমা আক্তার (১১) ও ছেলে মুহাম্মদ হোসেন (৯)।

তোফাজ্জল হোসেনের ভাই রাকিব উদ্দিন জানান, দোতলা বাড়িটির নিচতলায় ভাড়া থাকেন তোফাজ্জল। বৃহস্পতিবার রাতে ফেরদৌসী তিন সন্তান নিয়ে একটি কক্ষে ও তোফাজ্জল পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে বিকট শব্দে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরিত হলে দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালচাপা পড়ে তোফাজ্জল-ফেরদৌসী ও তাঁদের তিন সন্তান গুরুতর আহত হয়। ঘরের আসবাবপত্র চুরমার হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাবাসী এসে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশু আহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য চারজনকে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফেরদৌসী ও তাঁর দুই ছেলে-মেয়েকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ওই এলাকার সড়কের নিচে গ্যাস পাইপের ছিদ্র (লিকেজ) থেকেই বাদশা হাজির বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে বিস্ফোরণ হয়েছে। গতকাল এই বাড়ির পাশের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকও বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

বাড়ির মালিক বাদশা হাজি জানান, গ্যাস পাইপ লিকেজের ব্যাপারে তিতাস কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। তবে তারা সেটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বিভিন্ন স্থানে লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাসে মানুষের ফেলা দেওয়া বিড়ি-সিগারেটের আগুনে প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কী কারণে এই বিস্ফোরণ, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির মরদেহ স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য