kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

নির্মল সৈকত মাতাচ্ছে ডলফিনের ঝাঁক

করোনা সতর্কতায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্মল সৈকত মাতাচ্ছে ডলফিনের ঝাঁক

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ফিরে আসছে ডলফিনের ঝাঁক। বিশ্বের দীর্ঘতম সাগরসৈকতের বালুচরের তীরে বসেই দেখা মিলছে জোয়ারের পানিতে ডলফিনের লাফঝাঁপ। তিন থেকে চার দশক পর সমুদ্রসৈকতে আবারও এমন দৃশ্য ফিরে আসায় খুশি স্থানীয় লোকজন। একই সঙ্গে সৈকতের পানিতে এখন থেকে গোসলসহ পর্যটকদের নৌযানে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়ানো নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে কক্সবাজার সৈকতের একদম তীরবর্তী স্থানেই ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিনের দেখা মিলছে। সর্বপ্রথম গত সোমবার ডলফিনের একটি বিশাল ঝাঁক সৈকতে নজরে আসে। কলাতলী সৈকতে সেদিন সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে লাফ-ঝাঁপে মেতে থাকে তারা। এমনকি ডলফিনের ঝাঁকটি সেদিন সৈকতের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় এসেও জলকেলিতে মেতে ওঠে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে মহেশখালী পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা এসব ডলফিনের বিচরণক্ষেত্র।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে গত ২০ মার্চ থেকে সৈকতে পর্যটক সমাগম বন্ধ করে দেওয়া হয়। টানা আট দিন ধরে সৈকতে পর্যটকের ভিড় নেই। সাগরের পানিতে নেই পর্যটকদের সাঁতার কাটার কিটকটসহ স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযান। দোকানপাট বন্ধ থাকায় কোনো হাঁকডাক পর্যন্ত নেই। সৈকত হয়ে পড়েছে জনমানবহীন। ফিরে এসেছে আগের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। আর নিরাপদ ও উপযোগী বিচরণক্ষেত্র পেয়ে ফিরে আসছে ডলফিনের দল। স্থানীয়দের মতে, ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে এ রকম ডলফিনের ঝাঁক আর দেখা যায়নি।

কক্সবাজার সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োজিত ‘বিচ কর্মী’ খোরশেদ আলম বলেন, গত এক সপ্তাহে এখানে কয়েকবার দেখা গেছে ডলফিনের ঝাঁক। ১৬ বছর ধরে সৈকতে কাজ করছি। আগে এখানে এ রকম ডলফিনের ঝাঁক দেখতে পাইনি।’ কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, তিনিও এক সপ্তাহ ধরে সৈকতে ডলফিনের লাফালাফি দেখেছেন।

কক্সবাজারে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৈকতে ডলফিনের ঝাঁকের উপস্থিতির কথা প্রথমে শুনে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছি। এগুলো হামব্যাক বা গোলাপি ডলফিন। সুন্দরবনসহ কক্সবাজার উপকূলে এই প্রজাতির কমপক্ষে ২০০ ডলফিন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।’

ড. শফিক বলেন, ‘আমি মনে করি তিনটি কারণে ডলফিনের এই ফিরে আসা। প্রথমত, সাগর তীরবর্তী কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় সাগরে দূষণ নেই। দ্বিতীয়ত, পর্যটক না থাকায় সাগরের পানি স্বচ্ছ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ফিরে এসেছে নির্মল পরিবেশ। তৃতীয়ত, জেলেদের উৎপাত আগের মতো না থাকায় ডলফিনের খাবারের জোগান বেড়েছে।’

দীর্ঘদিন পর কক্সবাজার সৈকতে এমন বিরল দৃশ্য দেখে সাগরপারের হোটেলে অবস্থানকারী অনেকেই উল্লসিত। ডলফিনের এই জলকেলি দেখে সাগরে নেমে পড়েন তারকা মানের হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান। তাঁর ধারণ করা ডলফিনের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। একই হোটেলের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার আসাদুজ্জামান নূর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ হোটেলে কর্মরত। এমন মজার দৃশ্য আগে কখনোই চোখে পড়েনি। ডলফিনের এ আগমন স্থায়িত্ব পেলে এর আকর্ষণে কক্সবাজারে ছুটে আসবে বিপুলসংখ্যক পর্যটক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা