kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

গবেষণা করবে নিউ হোপ গ্লোবাল

মুক্তিযুদ্ধে ‘বার্মিংহামের’ অবদানের অজানা অধ্যায়ের খোঁজে

আরিফুর রহমান   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের বার্মিংহামে বসবাসরত বাঙালিদের অবদানের অনেক তথ্য এখনো অজানা। রক্তক্ষয়ী ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও প্রধান শিল্প কেন্দ্র বার্মিংহামের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহযোগিতা, লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে ১০ হাজার মানুষের প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ যেসব ভূমিকা রেখেছিল; তরুণ প্রজন্মের অনেকে সেসব ইতিহাস জানে না। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের সময় বার্মিংহামের অবদানের অজানা অধ্যায় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ গ্লোবাল নামের একটি সংস্থা। ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার’ শিরোনামে একটি প্রকল্পের আওতায় ওই সময় বার্মিংহামের মানুষ কিভাবে বাংলাদেশের মুুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল, সে বিষয়ে গবেষণা করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি পত্রিকা, একটি বই এবং মৌখিক ইতিহাস সাক্ষাৎকারের একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে বার্মিংহাম লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করবে নিউ হোপ গ্লোবাল।

জানা গেছে, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৩ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫৮ লাখ টাকা। নিউ হোপ গ্লোবালকে এ টাকা অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য ন্যাশনাল হেরিটেজ ফান্ড। ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার’ শিরোনামের প্রকল্পটি কয়েক মাস আগে ন্যাশনাল হেরিটেজ ফান্ডে জমা দেয় নিউ হোপ গ্লোবাল। কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলতি মাসে এ প্রকল্পে অনুদান দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বার্মিংহামের মানুষের অবদানের অজানা অধ্যায়ের কাজটি শুরু হলো স্বাধীনতার মাসেই। আগামী ১৮ মাস ধরে গবেষণাটি করবে নিউ হোপ।

এ প্রকল্পে অর্থপ্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার গর্বিত ইতিহাস রয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছিল। বার্মিংহামের মানুষের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পরিচিত করতে আমরা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছি। আর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হওয়ায় আমরা ন্যাশনাল হেরিটেজ ফান্ডকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা বাংলাদেশকে আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা এখনো জীবিত আছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সেই সাক্ষাৎকার সংরক্ষণ করে পরে তা ডকুমেন্টারি হিসেবে প্রচার করা হবে। এসব সাক্ষাৎকার কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। এ ছাড়া অজানা যেসব তথ্য, যা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তা খুঁজে বের করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বার্মিংহামের মানুষের ভূমিকা কী ছিল তার কিছু ধারণা মিলল ওয়েবসাইট ঘেঁটে। এতে দেখা যায়, বার্মিংহামে অবস্থানরত বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্থিক সহযোগিতা করেছিল। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ৫ মার্চ লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে বার্মিংহামের স্থানীয়রা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। একই দিন পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো এবং লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। নিউ হোপ গ্লোবালের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বার্মিংহামের একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ওই শহরের বাঙালিরা ১৯৬৯ সালে প্রথম পূর্ব পাকিস্তান মুক্তি ফ্রন্ট গঠন করে। তখন ওই ফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন আবদুস সবুর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মৃত আজিজুল হক ভূঁইয়া।

বার্মিংহামের এখনকার মানুষের কাছে ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস অজানা। নিউ হোপ গ্লোবালের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বার্মিংহামের এখনকার মানুষ যেমন জানে না, তেমনি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মও জানে না। আমাদের কাজটি হলো তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক তথ্যটি তুলে ধরা। সে জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।’ নিউ হোপ গ্লোবাল ইংল্যান্ডের একটি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা