kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

শর্তে মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন

ছয় মাস পর কী হবে, তাও সরকারের ওপর নির্ভর করছে

আশরাফ-উল-আলম ও এম বদি-উজ-জামান   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বছর এক মাসেরও বেশি সময় বন্দিজীবন কাটিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন গতকাল বুধবার। তাঁকে ছয় মাসের জন্য দুটি শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই ছয় মাস তাঁর সাজা স্থগিত থাকবে। কিন্তু ছয় মাস পর কী হবে খালেদা জিয়ার? সরকার যদি মুক্তির মেয়াদ না বাড়ায় সে ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গত মঙ্গলবার তাঁর গুলশানের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে জানান খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছয় মাস পর কী করা হবে তা ওই সময়ে দেখা যাবে।

গতকাল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শর্ত ভঙ্গ হলে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরতে হবে।’ ছয় মাস পার হওয়ার পর কী হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সহজভাবে আরো বলেন, ‘পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবেন। পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো—খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত। তিনি কারাগারে আছেন। তাঁকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আবার তিনি কারাগারে যাবেন।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি তা পাননি। আমরা বারবার বলে আসছিলাম, সরকারের ইচ্ছায় মানবিক কারণে হলেও মুক্তি দিতে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকারকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার তার সেই ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে। সুতরাং এটা তো স্পষ্ট যে সরকারের ইচ্ছায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হয়েছে। তাই এই ছয় মাস শেষ হওয়ার পর কী হবে সে বিষয়টিও সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’

তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আদালতের হাত নেই। এখন তিনি কত দিন মুক্ত থাকবেন তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার ১ উপধারাবলে সরকার খালেদা জিয়ার সাজা সাময়িক স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছে। এই উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইলে সরকার যে কোনো সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত ব্যক্তি যা মানিয়া লয়, সেইরূপ শর্তে যে দণ্ডে সে দণ্ডিত হইয়াছে, সেই দণ্ডের কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখিতে বা সম্পূর্ণ দণ্ড বা দণ্ডের অংশবিশেষ মওকুফ করিতে পারিবে।’

এই ধারায় মুক্তি (সাময়িক) দেওয়ার পর ও তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী করতে হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তবে মেয়াদ শেষ হলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা