kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

নিউ ইয়র্কে এক দিনে পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউ ইয়র্কে এক দিনে পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু

নভেল করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গত মঙ্গলবার এক দিনেই পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুজন পুরুষ। তাঁরা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে ৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এলমাস্ট হসপিটালে ৬০ বছর বয়সী আব্দুল বাতেন, ৭০ বছরের নূরজাহান বেগম এবং ৪২ বছরের এক নারী রয়েছেন। প্লেইনভিউ হসপিটাল নর্থওয়েলে মারা গেছেন ৫৯ বছর বয়সী এ টি এম সালাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিউম্যান রিসোর্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের ওজন পার্কের জসিম উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

আব্দুল বাতেনের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে। তিনি ব্রুকলিনে বসবাস করতেন। ৪২ বছরের মৃত ওই নারীর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়, তিনি এস্টোরিয়ায় বসবাস করতেন। রংপুরের এ টি এম সালাম ছিলেন ওয়েস্টর বে লং ল্যান্ড এলাকায়। ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান বাস করতেন এলমাস্ট এলাকায়। মৃতের স্বজনরা আগে এক দিনে লাশ হাতে পেত। এখন হাসপাতালগুলোর ব্যস্ততায় দুই দিন সময় লাগছে।

বোর্ড অব ইলেকশনের সদস্য মাজেদা আক্তার বলেন, ‘মেয়র অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের বেশির ভাগই ট্যাক্সিচালক এবং ডেলিভারি কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মেয়র অফিসে আমাদের আরো বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশিদের যেন এই ভাইরাস সম্পর্কে আরো সতর্ক করি। বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করার জন্য প্রত্যেককে অনুরোধ করা হয়েছে।’

এদিকে এক দিন আগেই ২৩ মার্চ মারা গেছেন ৩৮ বছরের আমিনা ইন্দ্রালিব তৃশা এবং ৬৯ বছরের মোহাম্মদ ইসমত। আগের সাপ্তাহে মারা গেছেন মোতাহের হোসেন ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজন বাংলাদেশি। নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভয় আর আতঙ্ক। অনেকে আবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এতে করে পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ‘এখন কারো ফ্লু হলেই করোনা ধরে নিয়ে সাবধানে থাকতে হবে। অবস্থার অবনতি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। করোনা কোনো গোপন রোগ নয়। ফলে এ নিয়ে লজ্জার কিছু নেই।’ সবাইকে বিশেষভাবে সাবধান হওয়ার ও ঘরে থাকার আহ্বান জানান এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা