kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

জেলা পর্যায়েও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর

ঢাকায় হচ্ছে ঘৃণাস্তম্ভ ও টর্চার সেলের রেপ্লিকা

আজিজুল পারভেজ   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেলা পর্যায়েও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ঘৃণা জানাতে রাজধানীতে নির্মিত হবে ঘৃণাস্তম্ভ। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদরদের নিষ্ঠুরতা তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধকালীন টর্চার সেলের রেপ্লিকা তৈরি করে সেখানে স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগগুলো নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চিরজাগরূক করে রাখতে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।’ 

স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জানাতে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে যে ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার জন্য মোহাম্মদপুরে জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এর জন্য একটি কমিটি কাজ করছে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক নকশার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। নকশাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ডিপিপি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের ধরে এনে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাত। এগুলো টর্চার সেল হিসেবে পরিচিতি পায়। স্বাধীনতার পর পুরো দেশের এ রকম প্রায় প্রতিটি টর্চার সেল চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই টর্চার সেলগুলোর আদলে একটি রেপ্লিকা তৈরি করা হবে। এই রেপ্লিকা তৈরি করতে ইতিমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূইয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কলেজে একটি বড় টর্চার সেল ছিল। পাক হানাদার বাহিনী সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। শান্তি কমিটি নিয়ন্ত্রিত রাজাকার বাহিনী এবং জামায়াতের নিজস্ব বিশেষ বাহিনী আলবদরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো সেখানে। আলবদর বাহিনী ও রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিকামী মানুষদের ধরে টর্চার সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করত। এ শারীরিক শিক্ষা কলেজকেই ঘৃণাস্তম্ভ্ভ ও চর্চার সেলের রেপ্লিকা স্থাপনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সচিব সম্প্রতি মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ পরিদর্শন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হওয়ায় স্থান বরাদ্দ করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর আবেদন করেছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, শারীরিক শিক্ষা কলেজে কোনো কারণে স্থান পাওয়া না গেলে মোহাম্মদপুরের কোনো উন্মুক্ত স্থানে টর্চার সেলের রেপ্লিকা ও ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘রেপ্লিকায় ফুটিয়ে তোলা হবে পাক বাহিনী ও রাজাকার-আলবদর মিলে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিভাবে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালাত। আর মা-বোনদের কিভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হতো, রেপ্লিকায় তা দেখে পাশেই নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে মানুষ তাদের মনের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।’

জেলা পর্যায়ে স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ : মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাক্ষ্য তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের স্থাপত্য নকশা প্রণয়নের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূইয়া জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের স্মৃতিসৌধের একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নকশা তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এখন ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সরকারিভাবে শুধু রাজধানীর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। আর বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প রয়েছে। এর আওতায় দেশের ৩৬০টি ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ করতে স্মৃতিস্মারক নির্মাণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা