kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

মিরপুরের সেই মহল্লার গেটে পুলিশ পাহারা

বুয়েট-ঢাকেশ্বরী আবাসিক এলাকা লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরপুরের সেই মহল্লার গেটে পুলিশ পাহারা

রাজধানীর মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রতিবেশী আরেকজনের মৃত্যুর ঘটনায় মহল্লাজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার পুলিশ মহল্লাটির প্রধান গেট বন্ধ করে সেখানে পাহারা বসিয়েছে। এর আগেই স্থানীয় বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি মহল্লাটিকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে দুই বৃদ্ধ মুসল্লির মৃত্যুর পর স্থানীয় ‘মসজিদুল এহসান জামে মসজিদ’ থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় লোকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার থেকেই সেখানে নামাজ আদায়ে মুসল্লির আগমন সীমিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গতকাল থেকে স্থানীয় লোকজন মসজিদটিতে নামাজ আদায় আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখছে।

উত্তর টোলারবাগ বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে করোনা ছড়াল তা বোঝা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়জনের মৃত্যুর কারণ করোনাভাইরাস কি না তা-ও এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। তবে তাঁরা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। একজন বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদ ছাড়া আর কোথাও যেতেন না। এসব কারণে আমরা সবাই আপাতত মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ রেখেছি। তবে মসজিদে নিয়মিত আজান দেওয়া হচ্ছে।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাইকে বাসায় থাকতে বলছি। এর পরও কিছু লোক গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। সামনের গেটে পুলিশের পাহারা আছে। এ অবস্থায় কেউ কেউ পুলিশকে আড়াল করে চলে যাচ্ছেন। সচেতন না হলে যে নিজের ও পরিবারের পাশাপাশি পুরো কমিউনিটির বিপদ হবে তা বুঝতে চাইছেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মারা গেছেন। তাঁর করোনা রিপোর্ট আজ পজিটিভ এসেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সকাল থেকেই ওই মহল্লা ও পাশের মহল্লায় মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশের একটি গাড়ি প্রধান সড়কে উত্তর টোলারবাগের ১ নম্বর গেটে অবস্থান নিয়েছে। তারা জরুরি কারণ ছাড়া কাউকে বের হতে দিচ্ছে না। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের একটি গাড়ি এসে মহল্লার রাস্তা ও মসজিদ এলাকায় জীবাণুনাশক-মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে গেছে। ওই সময় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলেন। এরপরই মসজিদুল এহসান জামে মসজিদ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দুপুরে ‘দারুল এহসান’ ভবন (একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন) থেকে কয়েকজন ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মী বিপ্লব বলেন, ‘আমিও শুনেছি কারা যেন গেছে। আমি তখন ডিউটিতে ছিলাম না।’

দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সামনের গেটে আমাদের টহল টিম আছে। হোম কোয়ারেন্টিন বা সতর্কতা পালন করছেন এলাকাবাসী। যে ভবনের লোক মারা গেছে সেখান থেকে জরুরি প্রয়োজনে একজন করে বের হতে পারে। কেউ মহল্লা ছেড়ে গেছে কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’

বুয়েট-ঢাকেশ্বরী আবাসিক এলাকা লকডাউন

বুয়েটের ঢাকেশ্বরী আবাসিক এলাকার একটি কোয়ার্টারে করোনাভাইরাসের একজন রোগী ধরা পড়ায় ওই এলাকার সব বাসিন্দা এখন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান জানান, ওই রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গতকাল আইইডিসিআর নিশ্চিত করে। এর পরই ওই আবাসিক এলাকার পরিবেশ কমিটি এলাকা আগামী ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা