kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিমানবন্দর থেকে সোজা ব্যাংকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিমানবন্দর থেকে সোজা ব্যাংকে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের আব্দুল আউয়াল যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন গতকাল সোমবার। সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। তাঁর হাতে মারা হয় কোয়ারেন্টিন সিল। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা চলে যান সিলেট নগরের জিন্দাবাজারের সোনালী ব্যাংকে। ব্যাংকের সামনে যেতেই তাঁর হাতের সিল দেখে ফটকে থাকা সিকিউরিটি গার্ড বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানান। পরে ওই প্রবাসীকে ব্যাংক থেকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ওই প্রবাসীকে নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। করোনাভাইরাসের এমন ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আব্দুল আউয়ালের মতো অনেক প্রবাসীই দেশে ফিরে এমন বেখেয়ালি। বিদেশফেরত অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না, এমন অভিযোগ করনোভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে গতকাল পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো ২৪ হাজার ৭০৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১৩৭ জন। এ ছাড়া পাঁচ হাজার ৯৪৪ জনের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুরে সরকারি তালিকায় জ্যামিতিক হারে বেড়েছে প্রবাসীদের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ৮১৯ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক সপ্তাহ আগে চাঁদপুরের গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। এর আগে গত রবিবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১৮৮ জনে। তথ্য গোপন করে এসব প্রবাসী এত দিন প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। অবশেষে তাঁদের লাগাম টেনে ধরতে চাঁদপুরে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক হিন্দু পল্লীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই আমেরিকানপ্রবাসী বিয়ের দাওয়াতে উপস্থিত থাকায় ২৫ পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামের হিন্দু পল্লীর ২৫ পরিবারের ১৪৮ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টিনে নিশ্চিত করতে সেখানে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে শ্বশুরবাড়িতে ঘুরতে যাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে জাপানফেরত এক প্রবাসীকে। একই জেলার মধুপুরে সুইজারল্যান্ডফেরত এক প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। রাজশাহীর পুঠিয়ায় হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় বিদেশফেরত এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জয়পুরহাটে হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকায় সবুজ আলী ও  সাহেব আলী নামের ব্রুনাইফেরত দুই প্রবাসীকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দিনাজপুরে জরিমানা করা হয়েছে তিন প্রবাসীকে। ঝালকাঠির রাজাপুরে বিদেশফেরত একজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। যশোরের কেশবপুরে হোম কোয়ারেন্টিন না মানায় দুবাইফেরত মাসুরা বেগম পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা গুনেছেন। নীলফামারীর সৈয়দপুরে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা অমান্য করায় এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকার সাভারে আলী নেওয়াজ নামো এক ইতালিপ্রবাসীকে চার হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়নের ভাদুলিয়া ও খইলশাখালী গ্রামের দুই ব্যক্তিকে  ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফিরে বাজার ও মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকায় গোপালচন্দ্র সাহা নামের এক প্রবাসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ৭১৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছে পুলিশ। তাদের বাড়ির সামনে টাঙানো হয়েছে লাল নিশানা। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে খাবার হোটেলে বসানোর দায়ে চারজনকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার নতুন করে সিলেটে ৩৩৬ জন, কুমিল্লায় ৫৮০ জন, সুনামগঞ্জে ৬৫ জন, নওগাঁয় ১৪৭ জন, ঝিনাইদহে ৫৮ জন, গোপালগঞ্জে ৭১ জন, সাতক্ষীরায় ২৭৩ জন, নাটোরে ৪৭ জন, বান্দরবানে তিনজন, কুড়িগ্রামে ১৮ জন, টাঙ্গাইলে ২৬১ জন, নীলফামারীতে ৪৪ জন, মাদারীপুরে ৬২ জন, রাজবাড়ী ৪৬ জন,  নরসিংদীতে ৭৯ জন,  জয়পুরহাটে ২২ জন, বরিশালে ৩৯ জন, পটুয়াখালীতে ৩০৭ জন, ভোলায় ২৪ জন, পিরোজপুরে ৫৪ জন, বরগুনায় ৪৪ জন, ঝালকাঠিতে ১৬ জন, শরীয়তপুরে ৩৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ৩৫ জন, হবিগঞ্জে ১৭৭ জন, দিনাজপুরে ৫৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিরা]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা