kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তে কাউন্সিলে হট্টগোল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে কি করবে না—এ নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় হট্টগোল হয়েছে। কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা করেন। তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একাডেমিক কাউন্সিলের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আন্দোলন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রলীগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্যের মাধ্যমে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের সভাপতি জাকারিয়া মিয়া এ সিদ্ধান্তের বাইরে কথা বলায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সভার মধ্যেই তাঁকে ধমক দেন। এমনকি সাদা দলের দুজন শিক্ষকও এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেন। একাডেমিক কাউন্সিল তাঁদের মতামত অগ্রাহ্য করে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাডেমিক কাউন্সিলের এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকের মতামত ছিল আমরা এই পদ্ধতিতে যাব না। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় না এসে গুচ্ছপ্রক্রিয়ায় গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে না। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেহেতু আসছে না, তাই এই প্রক্রিয়ার সাথে অন্তর্ভুক্ত হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানের দিক থেকেও নিচে নেমে আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা যেহেতু গুচ্ছপ্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত না, আমরাও মনে করি তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না।’

দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. তৌহিদুল হাসান বলেন, ‘আমরা গুচ্ছ পদ্ধতির বিপক্ষে কথা বলেছিলাম। গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির ব্যাপারে সারা দেশে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের ব্যানারে আন্দোলন হয়নি। গুচ্ছ পদ্ধতিতেই যে যেতে হবে, এটা দাবি আকারে আসেনি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেহেতু চায় না, আমিও এ ব্যাপারে একমত ছিলাম না। এখন গুচ্ছ পদ্ধতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে, তাহলেই ভালো। আমরা আশা করছি, আগামীতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আমাদের সাথে যুক্ত হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল আলম টিটন বলেন, ‘দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো না আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাবে না। শিক্ষার্থী হিসেবে এটা আমরা কখনো মেনে নেব না। ক্যাম্পাস খুললেই গুচ্ছ পদ্ধতির বিপক্ষে আমরা এক দফা আন্দোলনে যাব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা