kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক এক হাজার টাকার ক্যাশ আউট ও নিত্যপণ্য-ওষুধ কেনাকাটায় কোনো মাসুল লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের শাখা, এটিএম বুথ, এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত নগদ ও ই-মানি রাখতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ আউট চার্জবিহীন থাকবে। এ ছাড়া এটিএম কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্য ও ওষুধ কেনাকাটায় চার্জ কাটা যাবে না।

এসব নির্দেশনা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের বিস্তার এবং দেশে এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এ অবস্থায় রোগ বিস্তার রোধ ও প্রয়োজনে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। তাই উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহক সেবা দেওয়ার স্বার্থে আইসিটিসহ নিজ নিজ ক্রিটিক্যাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টে ‘কি পারসন’ চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সেবা চালু রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান (বিসিবি) প্রণয়ন করতে হবে। সার্বক্ষণিক ব্যাংকের এটিএম, পয়েন্ট অব সেল বা পস, অ্যাপ ও ইউএসএসডিভিত্তিক লেনদেন সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। অভিযোগ গ্রহণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য সাত দিন ২৪ ঘণ্টা হটলাইন ও ইন্টারনেটভিত্তিক গ্রাহক সেবা চালু রাখতে হবে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকের প্রতিটি শাখার ক্যাশ কাউন্টার, এটিএম ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট পয়েন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট পয়েন্টে নগদ অর্থ ও ই-মানি সরবরাহের সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং লেনদেনের স্থানসমূহ নিয়মিতভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সবার জন্য সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, নিত্যপণ্য ও ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি হতে ব্যক্তি লেনদেনে কোনো চার্জ কাটা যাবে না এবং এসব লেনদেনের মাসিক সীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। দেশে নিত্যপণ্য এবং ওষুধ কেনায় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) এবং ইন্টারচেঞ্জ রি-ইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার লেনদেন সীমা প্রযোজ্য হবে। এনএফসি সুবিধাযুক্ত কার্ডের লেনদেন সীমা তিন হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। নিত্যপণ্য ও ওষুধ বিক্রেতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ ব্যক্তিগত হিসাব, এসএফএস হিসাব, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব ও পিএসপি হিসাবকে ব্যাবসায়িক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। লেনদেনসংক্রান্ত প্রতারণা ও সোশ্যাল মিডিয়া, ই-মেইল, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করোনাভাইরাসভিত্তিক আর্থিক প্রতারণার বিষয়ে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও গ্রাহককে সতর্ক করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা