kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

তদবির ও সমন্বয়হীনতায় ঢুকছে ইউরোপের যাত্রী

মাসুদ রুমী   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদবির ও সমন্বয়হীনতায় ঢুকছে ইউরোপের যাত্রী

তদবির আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ইউরোপ থেকে একের পর এক যাত্রী আসছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রবিবার রাত ১২টার পর থেকে দুই সপ্তাহের জন্য যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের দেশগুলো থেকে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নানা তদবিরে তা বাড়িয়ে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। কিন্তু তাও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

ইউরোপ থেকে যাত্রী আসা থামেনি। কাতার এয়ারওয়েজ ও টার্কিশ এয়ারলাইনস নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই শাহজালালে ইউরোপ থেকে যাত্রী আনে। তাদের ফেরত পাঠাতে বেবিচকের অনড় অবস্থানের মধ্যেই আসে নানা অনুরোধ। এমনকি কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস লিখিত চিঠি পর্যন্ত দেয়, যা আগে জানানো হয়নি।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইউরোপ থেকে যাত্রী আনায় অভিযুক্ত এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বেবিচক। শাহজালালে গত তিন দিনে অন্তত ৯ জন যাত্রী নিয়ে দুটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নেমেছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলোর অজ্ঞতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আমরা কাতার ও টার্কিশ এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কাতার ও তুরস্কের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে অসন্তোষ প্রকাশ করে আজ (গতকাল) চিঠি দিয়েছি। আবারও একই ঘটনা ঘটলে তাদের ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করতে দেওয়া হবে না।’

সুইডেনের স্টকহোম থেকে গত বুধবার কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিন বাংলাদেশি মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, রাফিজা আফরোজ ও রায়হানা বেগম শাহজালালে অবতরণ করেন। নিষেধাজ্ঞার পরও কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাংলাদেশে পৌঁছানোর আশ্বাস দেয়। কিন্তু দোহা বিমানবন্দরে আসার পর তাঁদের ঢাকাগামী ফ্লাইটে নিতে তারা অস্বীকার করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি নিয়ে গত বুধবার সকালে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ওঠেন ওই তিনজন। তবে অবতরণের পর তাঁদের শাহজালালে আটকে দেওয়া হয়। নানা তদবিরে অবশেষে তাঁদের গ্রহণ করে কোয়ারেন্টিনের জন্য আশকোনায় হজ ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মফিদুর রহমান বলেন, ‘এয়ারলাইনসের পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু দুর্বলতা আছে। আমাদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাস সুইডেন থেকে আসা তিনজনকে অনুমতি দিয়ে চিঠি দিয়েছিল, সিভিল এভিয়েশনকে না জানিয়ে। তাঁদের আমরা বিমানবন্দরে আটকে রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত নানা কারণেই তাঁদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও কথা বলেছি। আগের ৯৬ জনকে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার ব্যাপারে জনগণের স্বার্থেই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছিল।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সেই ফ্লাইট ঢাকায় ল্যান্ড করবে না। তাঁদের জিজ্ঞাসাও করব না। এই নির্দেশনা সবাইকে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশ থেকে কোনো যাত্রী উল্লেখ না করে নিয়ে এলে আটকে দিয়ে সেই প্লেনেই পাঠিয়ে দেব। পরবর্তী  সময়ে বাংলাদেশে ওই প্লেনের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে।’

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান জানান, শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় সাত প্রবাসী বাংলাদেশিকে গতকাল সরাসরি কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই সাতজন কাতার, দুবাই, ওমান, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রী। গতকাল ও আজ পৃথক ছয়টি ফ্লাইটে তাঁরা দেশে ফেরার পর তাঁদের থার্মাল স্ক্যানারে স্ক্রিনিং করা হয়। পরীক্ষায় শরীরের তাপমাত্রা বেশি ধরা পড়ায় সরাসরি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা