kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

চীনের কাছে ২০ হাজার কিট ও স্ক্যানার কামনা

আরিফুর রহমান   

১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের কাছে ২০ হাজার কিট ও স্ক্যানার কামনা

নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ শনাক্ত করতে পর্যাপ্ত কিট নেই রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। কিটস্বল্পতার কারণে মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের কাছে ১০ হাজার কিট, ১০ হাজার থার্মাল স্ক্যানার চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাস্কও চাওয়া হয়েছে। গত সোমবার সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিট ও স্ক্যানার চাওয়া হয় চীনের কাছে।

ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কিট ও স্ক্যানারের সহযোগিতা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাড়াও মিলেছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তির দেশটি থেকে। চীনেই প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়। যদিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে চীনে। এরই মধ্যে ইতালি, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিট, স্ক্যানারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।

ইআরডির এশিয়া শাখার প্রধান (যুগ্ম সচিব) শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমরা চীনের কাছে কিট ও স্ক্যানার চেয়েছি। মাস্কও চেয়েছি। তারা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই কিট ও স্ক্যানার পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একাধিক ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশে মাস্ক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।’ 

আইইডিসিআরের তথ্য মতে, তাদের হাতে এখন মাত্র এক হাজার ৭৩২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য কিট আছে। দ্রুত রোগী চিহ্নিত করতে কিট ও থার্মাল স্ক্যানার জরুরি বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা। সেই আলোকেই চীনের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যথেষ্ট থার্মাল স্ক্যানার নেই। আইইডিসিআর যেসব জরুরি নম্বর দিয়েছে, সেখানে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ ফোন করছে। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, চীন থেকে কিট ও থার্মাল স্ক্যানার মিললে কভিড-১৯ শনাক্তকরণে  আইইডিসিআরের কাজ সহজ হবে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ডলার সহায়তা কামনা : এদিকে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকা। গত সোমবার ইআরডি থেকে বিশ্বব্যাংকের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়। ইআরডির বিশ্বব্যাংক শাখার প্রধান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সাধারণত অন্যান্য ঋণ পেতে আমাদের সময় লাগে আট থেকে ১০ মাস। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই টাকা পেতে এত সময় লাগবে না। তিন থেকে চার মাস লাগবে। তাদের একটি মিশন বাংলাদেশে আসবে। তার পরই দ্রুত একটি প্রকল্প নেওয়া হবে। কারণ বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করে থাকে।’

ইআরডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক করোনাভাইরাস ঠেকাতে যে এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে, সেখান থেকে বাংলাদেশ সহযোগিতা চায়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আইডিএ ১৮ প্যাকেজের আওতায় ১০ কোটি ডলার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আইডিএ ১৮ প্যাকেজের আওতায় অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে ক্ষেত্রে ঋণ হিসেবেই এই ৮৫০ কোটি টাকা নিতে হবে বাংলাদেশকে। যদিও এই ১০ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়ার অনুরোধ করেছে ইআরডি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশ্বব্যাংক টাকা দিয়েছে, কিন্তু খরচ হয়নি; সেই টাকা আরেক দেশকে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেটা বাংলাদেশ চেয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা