kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

‘নারীর লড়াই, নিরাপত্তা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিলে বক্তারা

নারীর ক্ষমতায়নে সবাইকে এক মঞ্চে আসতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারীর ক্ষমতায়নে সবাইকে এক মঞ্চে আসতে হবে

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘নারীর লড়াই, নিরাপত্তা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সমাজে নারী-পুরুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সহযোগিতা। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এখনো অনেক কাজ বাকি। আর সে জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে এক মঞ্চে আসতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীরা যত বেশি এগিয়ে আসবে তত বেশি অধিকারগুলো বাস্তবায়িত হবে। শুধু নারী দিবসে নয়, বছরের প্রতিটি দিনই নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে।’

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের (ইডাব্লিউএমজিএল) কনফারেন্স রুমে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘নারীর লড়াই, নিরাপত্তা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও নঈম নিজাম।

আলোচনায় অংশ নেন সাবেক নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসরিন ফাতিমা আওয়াল মিন্টু, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা, পূর্ব-পশ্চিম বিডি ডট নিউজের সম্পাদক খুজিস্তা-নূর-ই-নাহরীন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, চলচ্চিত্র নির্মাতা নারগিস আক্তার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফা রহমান রুমা, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর ও এসপি সম্পা ইয়াসমিন।

সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীরা যত বেশি আসবে তত বেশি আমরা আমাদের অধিকারগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার পদে নারীদের নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়ায় হাজার হাজার নারী মাঠে থাকছে, আমরা তৃণমূলে তাদের দেখতে পাচ্ছি।’

নঈম নিজাম বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন বেশ পুরনো। আঠারো শতকের তেমনি এক নারী নবাব ফয়জুন্নেসা। তাঁর স্বামী ছিলেন বড় জমিদার। কিন্তু তিনি সে সময় নারীর অধিকার নিয়ে বলেছিলেন ‘সতিনের ঘর করবেন না’। সাত দিনও থাকেননি স্বামীর বাড়ি। সে সময় রানি ভিক্টোরিয়া তাঁকে নবাব খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। তাহলে ২০২০ সালে এসে নারীর অধিকার বা সংগ্রামের জায়গাটুকু কোথায়?

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘নবাব ফয়জুন্নেসা এককভাবে নারী অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। একাধারে আমরা বেগম রোকেয়ার কথাও বলতে পারি। এই পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সমতা আসলে একটি সাইকেলের মতো, যাতে দুটি চাকাই লাগাতে হবে। সমাজের অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষের সমতা খুবই জরুরি।’

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা একটি বড় বিষয়। সংবিধানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারী-পুরুষ সমঅধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু সেই সমঅধিকার আমরা এখনো পাচ্ছি না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী যে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা