kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি জাল টাকা কারবারের প্রমাণ মিলছে

পাপিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়াকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁর অপরাধের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে তদন্তে। নরসিংদীতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবৈধ অস্ত্র কারবার, চাঁদাবাজি, জাল টাকার কারবার ও জমি দখলের তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া পাপিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপারে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটিকে দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পাপিয়ার কাছ থেকে ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। জাল নোট কারবারের একটি চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই চক্রের সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার অস্ত্রগুলো অবৈধ। নরসিংদীতে তাঁর সহযোগীদের কাছেও অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া পাপিয়ার চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন পণ্যের চোরাকারকার, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জাল দলিল করে এবং সন্ত্রাসীদের দিয়ে জমি দখল করার বিষয়েও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। 

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া-সুমন দম্পতি ও তাঁদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তৈয়বাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরেবাংলানগর ও বিমানবন্দর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় পাপিয়া ও সুমনের ১৫ দিনের রিমান্ড এবং বাকি দুজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে পাপিয়া ও তাঁর স্বামীসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলার তদন্তভার গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পায়নি র‌্যাব। মামলাগুলো তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

র‌্যাব-১-এর পরিচালক শাফী উল্লাহ বুলবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাইনি। দায়িত্ব পেলে তদন্ত শুরু করব আমরা।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে র‌্যাব শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ, স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি (পাপিয়া) গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ও উৎস উল্লেখ করে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নামে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকর সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে, যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে এবং এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নাম জড়িয়ে অযথা সম্মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

এর আগে গত সোমবার পাপিয়ার মামলার তদন্ত সম্পর্কে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ ধরনের সংবাদ প্রচারের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা