kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

হলফনামা বিশ্লেষণ

‘মুক্ত’ রেজাউলের বিপরীতে ৪৮ মামলার আসামি শাহাদাত

অর্থবিত্তে এগিয়ে সোলায়মান শেঠ

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মুক্ত’ রেজাউলের বিপরীতে ৪৮ মামলার আসামি শাহাদাত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি আসনে ৪০ মামলা মাথায় নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। এক বছর তিন মাসের ব্যবধানে এবার তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এই সময়কালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার তালিকায় নতুন করে আরো আটটি যোগ হয়েছে। তবে এই সময়ে আয়ও বেড়েছে তাঁর। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী আছেন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অর্থবিত্তে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও তিনি মামলা ও দায়দেনামুক্ত।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপার সোলায়মান আলম শেঠ অর্থবিত্তে অন্য প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। মূলত পৈতৃক সম্পত্তির ওপর ভর করে অনেকটাই রাজসিক জীবনযাপন তাঁর। স্থাবর সম্পদের যে তালিকা জমা দিয়েছেন তার মূল্যই ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া

খাগড়াছড়িতে থাকা জমির মূল্য ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। হাতে নগদ টাকা আছে এক কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।

ব্যাংকে জমা তিন লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বন্ডে বিনিয়োগ ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। সোলায়মান শেঠ ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকা। পাশাপাশি গাড়ি ঋণ রয়েছে ৯২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৭ টাকা।

অর্থবিত্তে পিছিয়ে থাকলেও অনেকটাই স্বচ্ছ আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। নগর আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সম্পাদক পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর আয়ের মূল উৎস বাড়িভাড়া। এ খাতে বছরে তাঁর আয় চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে বাড়ির আর্থিক মূল্য দেখিয়েছেন এক লাখ টাকা। আর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া চারটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ধরেছেন এক কোটি ৯ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ৪০ লাখ টাকা। নগদ আছে চার লাখ ৫১ হাজার টাকা।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের উত্তরা ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্টে তিন কোটি দুই লাখ ২৫ হাজার এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে ২৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা দেনা রয়েছে। পেশায় চিকিৎসক এই নেতার বছরে আয় ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়িভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ব্যাংক, বন্ড ও নগদে এই নেতার হাতে আছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া আটতলা বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি দুই লাখ টাকা।

তবে বিএনপির এই নেতাকে বেশি ভোগাচ্ছে ৪৮টি মামলা। এর বেশির ভাগই সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ চলাকালীন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ৪০টি বিচারাধীন মামলার উল্লেখ করলেও গতকাল জমা দেওয়া হলফনামায় ৪৮টি মামলার উল্লেখ করা হয়েছে। সব মামলাই বিচারাধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা