kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

মানিকখালী রেলস্টেশন

‘সিগন্যালের ভুলে’ এক মাসে দুইবার মুখোমুখি ট্রেন

সহকারী স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানকে বদলি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সিগন্যালের ভুলে’ এক মাসে দুইবার মুখোমুখি ট্রেন

কিশোরগঞ্জের মানিকখালী রেলস্টেশনে সিগন্যালের ভুলে আবারও মুখোমুখি হয় দুই ট্রেন। শেষ পর্যন্ত চালকের দক্ষতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ট্রেন দুটির শত শত যাত্রী। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মাত্র ২৫ দিন আগে একই স্টেশনে একই ভুলে অন্য দুটি ট্রেন মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। সেবারও চালকের দক্ষতায় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

এক মাসে দুইবার এ ধরনের ভুলের কারণে মানিকখালী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আতাউল করিম ও পয়েন্টসম্যান আসাদ মিয়াকে গত বুধবার রাতেই বদলি করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বারবার কেন এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ভৈরবগামী ২৪৪ ডাউন লোকাল ট্রেনটি মানিকখালী স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৭৪৯ আন্ত নগর এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনটি একই লাইনে স্টেশনে ঢুকে পড়ে। লাইনে আরেকটি ট্রেনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগারসিন্দুর ট্রেনের চালক ওই ট্রেনটির কাছাকাছি গিয়ে শেষ মুহূর্তে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। এতে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় ঘেরাও করলে কর্তব্যরতরা পালিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ট্রেন দুটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী ঈশা খাঁ ৪০ ডাউন লোকাল ট্রেনটি মানিকখালী স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে অপেক্ষা করছিল। একই সময় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ঈশা খাঁ ৩৯ আপ লোকাল ট্রেনটি মানিকখালী স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রেনটিকে ১ নম্বর লাইনের পরিবর্তে ভুল করে ২ নম্বর লাইনে প্রবেশের সিগন্যাল দেওয়া হয়। একই লাইনে দুই ট্রেনের অবস্থান দেখতে পেয়ে যাত্রী ও স্টেশনে থাকা লোকজন আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে। এ অবস্থায় ময়মনসিংহগামী ট্রেনের চালক ব্রেক কষে খানিকটা দূরে গাড়িটি থামান। ফলে সে যাত্রাও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় যাত্রীরা। জানা গেছে, দুইবারই মানিকখালী স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্টেশন মাস্টার আতাউর করিম এবং সিগন্যালের দায়িত্বে ছিলেন পয়েন্টসম্যান মো. সাদেক মিয়া।

এ ব্যাপারে মানিকখালী রেলস্টেশনের মাস্টার আব্দুস সালাম বললেন, বুধবার ও ১ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে দুটি ঘটনাই সিগন্যালের ভুলে ঘটেছে। কেন বারবার সিগন্যালে ভুল হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ স্টেশনের সিগন্যালব্যবস্থা অনেক পুরনো। 

মানিকখালী রেলস্টেশনের একটি সূত্র বলছে, এ স্টেশনে তিনজন স্টেশন মাস্টার থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন দুজন। ছয়জন পয়েন্টসম্যানের (যাঁরা সিগন্যালব্যবস্থা তদারকি করেন) পদ থাকলেও রয়েছেন দুজন। দুজন পোটার থাকার কথা থাকলেও এ পদে একজনও নেই। সীমিত লোকবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে তাদের। ফলে রেলব্যবস্থা সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পয়েন্টস সিগন্যাল মিস্ত্রি ফারুক আহমেদ জানান, পয়েন্টসের মাঝে পাথর পড়ে থাকার কারণে গত বুধবার সিগন্যাল হলেও রেলের পয়েন্টস ঠিকমতো হয়নি।

রেলের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘মানিকখালী স্টেশনে সিগন্যালব্যবস্থার কিছু সমস্যা রয়েছে। সহকারী স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের জায়গায় নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্টেশনের পুরো সিগন্যালব্যবস্থা পরিবর্তন করে দেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা