kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

পাশের ঘরে বসেই অঢেল টাকা পেতেন এনু-রূপন

♦ ক্যাসিনোর দায়িত্বে রেখেছিলেন ৪০০ কর্মচারী
♦ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান, আরো মামলা করবে সিআইডি

ওমর ফারুক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাশের ঘরে বসেই অঢেল টাকা পেতেন এনু-রূপন

গেণ্ডারিয়ার বহুল আলোচিত দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। এনু গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আর রূপন একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনোর পাশের ঘরে বসে থেকেই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পেতেন। সেই টাকা বিলি করার নির্ধারিত লোকও ছিল তাঁদের। তিন পালায় ক্যাসিনো চালানোর দায়িত্ব পালন করতেন ৩৫০ থেকে ৪০০ কর্মচারী। তাঁদের দৈনিক ভিত্তিতে টাকা দিতেন এনু-রূপন। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আরো মামলা করতে যাচ্ছে সিআইডি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই ভাই এত টাকার মালিক হলেও আত্মীয়-স্বজনকে কোনো সহায়তা করতেন না। শুধু মা মমতাজ বেগমকে মাসে কয়েক লাখ টাকা দিতেন তাঁরা। এমনকি পলাতক থাকা অবস্থায়ও তাঁরা মাকে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠাতেন। মা-ই অন্য ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনকে টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনু-রূপনের  বিরুদ্ধে র‌্যাব চারটি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে। সেই মামলায় টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরো যে সম্পদ ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর অনুসন্ধান করছি আমরা। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ ছিল এনু-রূপনের হাতে। তাঁরা প্রথমে ‘ওয়ান টেন’ খেলা দিয়ে জুয়ার আসর শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে নেপাল থেকে ১০০ জনকে নিয়ে আসেন ক্লাবে। তাঁদের মধ্যে অনেক নেপালি তরুণীও ছিলেন। ২০১১ সালের দিকে সেখানে জুয়া খেলার পাশাপাশি মদ ও বিনোদনের সুযোগ থাকায় একের পর এক ব্যবসায়ী ঝুঁকতে থাকেন। প্রথম দিকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যাসিনো চললেও পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই ক্যাসিনো খোলা রাখা হতো। আর আট ঘণ্টা করে তিন শিফটে কাজ করতেন ৩৫০-৪০০ কর্মচারী। তাঁদের প্রতিদিন ২০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দিতেন। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর জন্য প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রতিদিনের খরচই ছিল পাঁচ লাখ টাকার বেশি।

সূত্র মতে, এনু-রূপন তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ক্যাসিনো কারবার শুরু করার পর তাঁরা ক্যাসিনোর পাশে একটি কক্ষে বসতেন। কোনো দিন ভেতরে ঢুকতেন না। কারা কী করবে সব দায়িত্ব দেওয়া ছিল। ফলে প্রতিদিনের ভাগবাটোয়ারা শেষে তাঁদের কাছে ১০ লাখ টাকার বেশি চলে আসত। ভাগবাটোয়ারার কাজ করতেন তাঁদের এক সত্ভাই। তাঁদের ওখানে বেশির ভাগ জুয়াড়ি ছিলেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ছয় বছরে এনু-রূপনের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ৯১টি হিসাব নম্বরে ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। দুই ভাইয়ের হিসাব নম্বরে টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত শতাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সিআইডির কার্যালয়ে ডেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর এনু ও রূপনের আস্তানা থেকে পাঁচ কোটি টাকা ও আট কেজি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছিল র‌্যাব। গত বুধবার আবার তাঁদের আরেক বাড়ির ভল্টে মিলল সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, এক কেজি স্বর্ণ, বিদেশি মুদ্রা ও পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর। গত ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করার সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা পেয়েছিল। হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেও এনু-রূপন আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন মাত্র ছয় কোটি টাকা। বাকি টাকা গোপন করে গেছেন।

জানা যায়, এনু-রূপনরা সত্ভাইসহ সাত ভাই। অন্য ভাইয়েরা তাঁদের বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা