kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর অভিমত

এসএসসি পর্যন্ত বিষয় বিভাজন দরকার নেই

১৭২ মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএসসি পর্যন্ত বিষয় বিভাজন দরকার নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তাঁর কার্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান করেন। পরে তিনি পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি : বাসস

নবম শ্রেণিতে পাঠ্যক্রমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা বিভাজনের (বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য) দরকার নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাধ্যমিক স্তরে এই বিভক্তি না থাকাই ভালো। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্ত হয়, সেটাই ভালো।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ক্লাস নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে, তা ভাগ করে দেওয়া হয়। আমাদের এখানে একসময় করা হয়েছিল। এটা বোধহয় প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সময়, ’৬৩ সালে করা হয়। কেউ বিজ্ঞান পড়ল না

দুই বছর, এ জন্য সে এটায় ভর্তি হতে পারবে না, ওটায় ভর্তি হতে পারবে না। আমেরিকায় এটা নেই, পৃথিবীর অনেক দেশে এটা নেই। কাজেই এটা না থাকাই ভালো। আমার মনে হয়, এই ভাগটা থাকার কোনো দরকার নেই।’

এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয়ই শিক্ষার্থীদের পড়া প্রয়োজন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সাবজেক্টই তারা পড়তে পারে। এসএসসির পরে গিয়ে যদি বিভক্তি হয় তবে সেটাই ভালো। তাহলে অন্তত তার মেধা বিকাশের একটা সুযোগ পায়। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে।’

প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো সব সাবজেক্টই বিজ্ঞানভিত্তিক। বিজ্ঞানের বাইরে কিছু না। আমরা এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা বলছি। এখন থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও সহযোগিতা করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষকে যদি কারিগরি শিক্ষা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা যদি দিতে পারি, আমরা অন্যকে সাহায্য করতে পারব, অন্য দেশকে সহযোগিতা করতে পারব। সেই অবস্থা আমরা তৈরি করতে পারব এবং আমাদের সেটাই করতে হবে। সেভাবে আমরা কাজ করতে চাই।’

প্রত্যেক উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য স্কুল, কলেজ নির্মাণের কাজ সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা আধুনিক জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি আসবে। যখনই যেটা আসবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যেন সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে সেভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতিতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে থাকবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে অবহেলা করতে চাই না। মাদরাসাতেও কিন্তু অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। সেখানে প্রযুক্তি শিক্ষা রয়েছে। এমনকি আমাদের কওমি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছি, দাওরায়ে হাদিস পর্যায়ে আমরা মাস্টার্স মান দিয়েছি। এ কারণে তাদেরকেও আমরা সমন্বিত শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই, একই ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘তারা তাদের মতো পড়বে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন যে শিক্ষার দরকার হয়, কর্মক্ষেত্রে চাকরি পেতে বা কাজ পেতে যে শিক্ষার দরকার হয়, সে শিক্ষা তারা গ্রহণ করবে। সেখানেও মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে। তাদেরকে কেন আমরা অবহেলা করব? তাদেরকেও নিয়ে এসেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন আমাদের মঞ্জুরি কমিশন খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত একটা অভিন্ন নীতিমালা করা।’

শিক্ষার সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের কাছ থেকেও এ সম্পর্কিত মতামত প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখেন, শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য এবং শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার জন্য আমাদের আর কী কী প্রয়োজন। যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব এবং সেটাই আমাদের নীতি।’ সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা