kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

শক্তিমান চাকমা হত্যার আরেক আসামি গোলাগুলিতে নিহত

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার আরো এক অন্যতম প্রধান আসামি সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন। গতকাল রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের বানাসছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহত অর্পণ চাকমা ওরফে বাবুধন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন।

গতকাল দুপুরে রাঙামাটি সেনানিবাসে এক ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন অর্পণ চাকমা। তিনি নিজে গুলি করে শক্তিমানকে হত্যা করেছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গতকাল ভোররাতে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোনের শুভলং ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহলদল নৌযানে করে বন্দুকভাঙ্গার বানাসছড়ি এলাকায় যায়। সেখানে মাইসভাঙ্গা এলাকায় নৌযান থেকে নামতেই পাহাড়ের ওপরে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী টহলদলটির ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেনাসদস্যরা দ্রুত আত্মরক্ষার্থে অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। বিষয়টি শুভলং ক্যাম্পকে অবহিত করলে কিছুক্ষণের মধ্যে স্পিডবোটে করে আরো একটি টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ১৫-২০ মিনিট গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় অর্পণ চাকমার মৃতদেহ পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

অর্পণের কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় অস্ত্র, পিস্তলের গুলি, এলজির কার্তুজ এবং কিছু ব্যক্তিগত সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বন্দুকযুদ্ধের পর একজনের মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটির সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন যদি কোনো স্বজন আসে তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হবে।’

২০১৮ সালের ৩ মে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমানকে পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ২৩ আগস্ট রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দোপাতা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে সুমন চাকমা নামের ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হন। তিনিও ছিলেন শক্তিমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এ ছাড়া সাত দিন আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বানাসছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে নিহত হন সুমন চাকমা নামের আরেক ইউপিডিএফ কর্মী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা