kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

অনুমোদন পেল উচ্চ আয়ের দেশে যাওয়ার পথনকশা

মধ্যম আয়ের ফাঁদে না পড়ার সতর্কবার্তা

বহুত্ববাদী পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যম আয়ের ফাঁদে না পড়ার সতর্কবার্তা

প্রতিবেশী ভারত, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, ইউরোপের তুরস্কের মতো দেশ দীর্ঘদিন ধরে যে মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে আছে, বাংলাদেশ যাতে একই পথের পথিক না হয়, সরকারকে এর একটি সতর্কবার্তা দিল পরিকল্পনা কমিশন। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আয়ের দেশে যাওয়ার পথে মধ্যম আয়ের ফাঁদ যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে সে জন্য নীতি প্রণেতাদের সজাগ ও সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন পাওয়া দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০২১-৪১)। কমিশন বলছে, একটি দ্রুতবর্ধনশীল উন্নয়নগামী অর্থনীতির জন্য মধ্যম আয় কোনো গন্তব্য হতে পারে না। বরং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে এই ‘মধ্যম আয়’ ফাঁদ। গতকাল মঙ্গলবার এনইসি সভায় অনুমোদন পেয়েছে উচ্চ আয়ের দেশে যাওয়ার পথনকশা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। ২০ বছর মেয়াদি এই পথনকশার ওপর ভিত্তি করে দেশে মোট চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “২০৪১ সালে আমরা বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চাই, ‘রূপকল্প ২০৪১’-এ সেসব বিষয় বলা আছে।” তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০৪১  চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে জনগণ সম্মিলিতভাবে সুশাসন, গণতন্ত্রায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ ও সক্ষমতা বিনির্মাণ—এই চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভ রক্ষণাবেক্ষণ করবে।’

রূপকল্প ২০৪১-এ জোর দেওয়া হয়েছে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়নে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি বহুত্ববাদী পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কথাও বলা আছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোথায় থাকবে, তার একটি প্রক্ষেপণ করা হয়েছে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়। সে মোতাবেক আগামী ২০ বছর পর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৯.৯ শতাংশ অর্জিত হবে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের আশঙ্কা, যদি কোনো কারণে এই দ্রুতগতি অর্থনীতিকে ব্যাহত করে তবে সেটি হতে পারে মধ্যম আয় ফাঁদের সূত্রপাত; যা উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জনকে দেরি করাবে। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় ব্যর্থ হয়, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, যদি মানসম্মত প্রস্তুত করা পণ্য রপ্তানিতে নিম্ন মজুরি প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে না পারে, তবে মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়ার ঝুঁকি প্রবল হবে। মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে কমিশন বলেছে, দেশটি খুব শিগগির ১২ হাজার ৫০০ ডলারের মাথাপিছু আয় নিয়ে উচ্চ আয়ের দেশ তথা উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। কারণ, দেশটিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, শক্তিমত্তা ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা সুফল নিয়ে এসেছে। অথচ থাইল্যান্ড বহু বছর ধরে মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে আছে। কারণ, দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। রপ্তানিপ্রবণতায়ও মন্দা রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন দক্ষতা অত্যন্ত দুর্বল। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি যাতে হালকাভাবে না নেয় সেই সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়।

গতকালের এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া এলাকায় ইকোট্যুরিজম গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা