kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

বড়লেখার মতিনের লাশ কাতারে বন্ধুর ফ্রিজে

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড়লেখার মতিনের লাশ কাতারে বন্ধুর ফ্রিজে

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল আব্দুল মতিনের (৪৫)। সাত মাস আগেও দেশে ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি। হয়তো তখন মতিন ভাবেননি দেশে আর কোনো দিন ফিরবেন না। সেটাই সত্যি হলো, আর দেখা হবে না আদরের সন্তান ও স্ত্রীর সঙ্গে।

গত বৃহস্পতিবার কাতারের আবু হামুর এলাকায় বন্ধু ইব্রাহিমের কক্ষের ফ্রিজের ভেতর থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পর আব্দুল মতিনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন মতিনের বন্ধু ইব্রাহিম। ধারণা করা হচ্ছে, ইব্রাহিমই মতিনকে খুন করে পালিয়েছেন।

গত সোমবার আব্দুল মতিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া। মতিনের কথা মনে করে স্বজনরা কাঁদছেন। মতিনের মৃত্যুর খবর শুনে আত্মীয়-স্বজনরা তাঁর বাড়িতে ছুটে আসছেন।

মতিনের বড় ভাই মানিক উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই অসুস্থ ছিল। কয়েক দিন আগে কাতারে তাঁর হার্টের অপারেশন হয়েছে। সে বিশ্রামে ছিল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বাড়িতে ফোন দিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছিল। এরপর আর কথা হয়নি। ১৫ ফেব্রুয়ারি সে নিখোঁজ হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার কাতার পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে সেখানে থাকা আমার ভাইদের জানায়।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মতিনের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। তিনি উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির হরিপুর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে। পরিবারে তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে আব্দুল মতিন কাতারে পাড়ি জমান। কাতারের সানাইয়া এলাকায় তিনি গ্যারেজ ব্যবসা করতেন। মতিন সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে দেশে ঘুরে গেছেন। প্রায় তিন বছর আগে গ্যারেজের ব্যবসা ছেড়ে একটি গাড়ি কেনেন। এই গাড়ি চালিয়ে তিনি উপার্জন করতেন।

স্বজনরা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রবাসী বন্ধু ইব্রাহিম ফোন করে ডেকে নেয় আব্দুল মতিনকে। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পাওয়ায় কাতারের স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাতারের আবু হামুর এলাকায় বন্ধু ইব্রাহিমের কক্ষের একটি ফ্রিজের ভেতর থেকে নিখোঁজ আব্দুল মতিনের লাশ উদ্ধার করে কাতার পুলিশ। এর পর থেকে ইব্রাহিমের খোঁজ মিলছে না। ইব্রাহিমের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গচুয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত সৈয়দ আহমদের ছেলে। পুলিশ আব্দুল মতিনের লাশ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রেখে ঘটনার তদন্ত করছে। স্বজনরা ধারণা করছেন, পরিকল্পিতভাবে মতিনকে খুন করে ফ্রিজে রেখে ইব্রাহিম পালিয়ে দেশে ফিরেছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ঘটনাটি আমরা তিন দিন আগে জানতে পেরেছি। মতিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারের সচ্ছলতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা