kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন ৯ বিভাগ শ্রেণিকক্ষহীন

কোনো বিভাগের পাঠদান চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের করিডরে

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন ৯ বিভাগ শ্রেণিকক্ষহীন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া নতুন ৯টি বিভাগের বেশির ভাগেরই নিজস্ব কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। কোনো কোনো বিভাগে তিন বর্ষের পাঠদান চলে একটি শ্রেণিকক্ষে। আবার কোনো বিভাগের পাঠদান চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের করিডরে। পর্যাপ্ত কক্ষ নেই এসব বিভাগের শিক্ষকদেরও। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শর্ত না মেনেই এসব বিভাগ খোলা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত তিন শিক্ষাবর্ষে নতুন ৯টি বিভাগ চালু হয়। এর মধ্যে ব্যবসায় অনুষদে দুটি—‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’। বিভাগ দুটিতে তিনটি করে ব্যাচ রয়েছে। ট্যুরিজম বিভাগের তিন ব্যাচের ২২৫ শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে একটি। সেটিও মার্কেটিং বিভাগ থেকে ‘ধার’ করা। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জন্য ওই অনুষদের ভবনে কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের তৃতীয় তলার করিডরে। বিভাগের অফিস কক্ষ আবার ব্যবসায় অনুষদ ভবনে। ওই কক্ষেই বসতে হচ্ছে শিক্ষকদের। বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শুভ্রা বলেন, ‘শব্দদূষণের কারণে করিডরে ক্লাস করতে সমস্যা হয়। বৃষ্টির পানিও চলে আসে।’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নতুন চালু হওয়া দুটি বিভাগ হলো ‘ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ ও ‘সমাজকর্ম’। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের ২০৭ নম্বর কক্ষে। এটি ইংরেজি বিভাগ থেকে ‘ধার করা’। সমাজকর্ম বিভাগের তিনটি ব্যাচ ক্লাস করে অনুষদ ভবনের ২৩১ নম্বর কক্ষে। আইন অনুষদভুক্ত আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অফিস কক্ষ মীর মশাররফ হোসেন ভবনে। ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে যান অনুষদ ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষে। একই কক্ষে মাঝেমধ্যে ক্লাস করে সমাজকর্ম বিভাগ।

শ্রেণিকক্ষের সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মেসি বিভাগ। শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাদের পাঠদান চলছে ল্যাব কিংবা সেমিনার রুমে।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চালু হয় চারুকলা বিভাগ। বিভাগটির অনুমোদনে দুটি শর্ত দেয় ইউজিসি। শর্ত অনুযায়ী প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে প্রশাসন। এ ছাড়া ওই বিভাগ চালাতে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার শর্ত দিয়েছিল ইউজিসি। তবে এসব শর্ত মানা হয়নি।

এসব বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘নতুন বিভাগ চালু করা সব সময় একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। কিছু বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট আছে। তবে ক্যাম্পাসে মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। ভবনগুলো ঊর্ধ্বমুখী করার কাজ প্রায় শেষের পথে। আশা করি চলতি বছরেই সংকট কেটে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা