kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচন

পোস্টার-মাইক নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে নয়

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোস্টার-মাইক নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে নয়

ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে পাঁচটির বেশি পথসভা করতে পারবে না প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলো। কখন কে পথসভা করবে তা সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার যেখানে সেখানে পোস্টার টানানো এবং মাইকে প্রচার করা যাবে না। ইসির নির্ধারিত ২১টি স্থানে পোস্টার টানাতে হবে। মাইকিং করা যাবে নির্বাচনী ক্যাম্প ও নির্দিষ্ট স্থানে। এ উপনির্বাচনে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলো কোনো জনসভা করতে পারবে না। তবে ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় অফিস খোলা থাকবে, চলবে গণপরিবহন। এসব বিষয়ে এ আসনের প্রার্থীরা একমত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন।

গতকাল রবিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রার্থীদের সঙ্গে ইসির এক মতবিনিময় সভায় ওই স্মারক সই হয়। ওই সময় প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা, এজেন্টদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরলেও তা আমলে নেয়নি কমিশন। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন, ‘এ উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এ সমঝোতা সফল হলে জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিমালা সংশোধন করব।’

সভায় জানানো হয়, সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে মাইকিং, পোস্টার, সড়ক বা ফুটপাতের ওপর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে জনদুর্ভোগ হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টারে পলিথিন ব্যবহারের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলোতে এসব যন্ত্রণা দূর করতে ইসি এ উদ্যোগ নিয়েছে। সভা শেষে ঢাকা-১০ আসনের ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সবাইকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এবারই প্রথম আচরণবিধিমালার বাইরে প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রচারে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করল ইসি। সভার শুরুতে প্রার্থীদের উদ্দেশে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২৫ টন পোস্টার এমনভাবে ঝোলানো হয়েছিল যে আকাশের চাঁদ-সূর্য দেখা যায়নি। এসব পোস্টার ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে গেছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। এ ছাড়া মাইকিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হয়েছে।’

সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ভোটারদের সুবিধার্থে গণপরিবহন চালু রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ দিতে হবে।’ ভোটের আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দেখার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়া হয় না। বের করে দেওয়া হয় তাঁদের। হয় এজেন্টদের কেন্দ্রে যাওয়া, অবস্থান ও বাড়িতে ফেরার নিরাপত্তা দিতে হবে; অন্যথায় নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে এজেন্ট তুলে দিতে হবে।’ জবাবে সিইসি বলেন, ‘এজেন্টদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান বিধিও সংশোধন সম্ভব নয়। কেউ এজেন্টদের বের করে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করবেন।’

সিইসির ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান কয়েকজন প্রার্থী। তাঁরা বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটারদের অনীহা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ দেওয়ার আগেই মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একজন প্রার্থী বলেন, ‘অনাস্থার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যান না। গোপন কক্ষে অন্যরা বসে থাকে। ইসি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।’

ওই সময় নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী প্রার্থীদের প্রচার বিষয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে সিইসি বলেন, ‘এজেন্টদের কেন্দ্রে নেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের বা প্রার্থীর। তবে কেন্দ্রে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব প্রিসাইডিং অফিসারের। কেউ নিরাপত্তা না দিলে আমাদের কাছে অভিযোগ জানাবেন, অ্যাকশন নেব। সিটি নির্বাচনে এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।’

সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে সিইসি বলেন, ‘ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে প্রচারে এ সমঝোতা সফল হলে জাতীয় পর্যায়ে আচরণ বিধিমালা চেঞ্জ করব। এ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সুবিধমতো জায়গায় পাঁচটি পথসভা করতে পারবে। যেখানে একদল পথসভা করবে, সেখানে আরেক দল করবে না। জনসভা করা যাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা