kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

৯৯৯, ভয়ংকর কিশোর গ্যাং থেকে রক্ষা পেল আরেক কিশোর

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুরে ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে এক কিশোরের জীবন বাঁচাল ৯৯৯। ঘটনার শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী পারভেজ পাপ্পুকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে সংঘবদ্ধ এগারো কিশোরকে। এদের দশজনই এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সদর মডেল থানায় এসব কিশোরের অভিভাবকদের রবিবার রাতে তাঁদের সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে ভিড় করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে আক্কাস আলী হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হয় পারভেজ পাপ্পু নামের এক পরীক্ষার্থী। ওই সময় স্কুল গেটের সামনে অপেক্ষমাণ এগারো কিশোর চ্যাংদোলা করে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায় পাশের সড়কে। সেখান থেকে ইজি বাইকে শহরের প্রফেসরপাড়ার শেষ প্রান্ত মাঝিবাড়ি এলাকার মেঘনা নদীপারে। সেখানে বেধড়ক পিটুনি দিতে থাকে পারভেজ পাপ্পুকে। এমন দৃশ্য দেখে ফেলেন অদূরে নদীতে গোসল করছিলেন—এমন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে আবুল দেওয়ান নামের একজন বুদ্ধি করে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সদর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন। পুলিশ দেখে সাহস পান এলাকার অন্যরাও। ঘেরাও করে আটক করা হয় কিশোর গ্যাংয়ের এগারোজনকে। এতে প্রাণে রক্ষা পায় অন্য কিশোর পারভেজ পাপ্পু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানান, পারভেজ পাপ্পু নামের এই কিশোরের শরীরের বিভিন্ন স্থান মারাত্মকভাবে ফুলে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। তবে আপাতত আশঙ্কামুক্ত সে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় চাঁদপুরের উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমিতে পড়াশোনা করত পারভেজ পাপ্পু। দুই বছর আগে সে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার বহরিয়া নুরুল হক হাই স্কুলে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে যারা তাকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়েছে, তাদের মধ্যে দশজনই পাপ্পুর সাবেক স্কুলের সহপাঠী। অন্য একজন বহিরাগত। এদের কারো একজনের সঙ্গে অতীতে তার বিরোধের জের ধরে গতকালের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের ধারণা। তবে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চললেও এদের কারো নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ঘটনার শিকার কিশোর পারভেজ পাপ্পুর বাবা বেলাল হোসেন বাবু চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন। মা ফাতেমা বেগম জানান, তাঁর একমাত্র ছেলে পাপ্পু। তাঁর ছেলেকে বিনা অপরাধে মেরে ফেলতে চেয়েছে ওরা। এ ঘটনার বিচার চান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা