kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল

ভঙ্গুর নিষ্কাশনব্যবস্থায় বৃষ্টি না হলেও জমছে পানি!

জহিরুল ইসলাম    

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভঙ্গুর নিষ্কাশনব্যবস্থায় বৃষ্টি না হলেও জমছে পানি!

‘ব্রিজের (উড়াল সেতু) মইধ্যে কত সুন্দর। কিন্তু নিচে নাইমা দেহি কাচরা (ময়লা) পানির মইধ্যে পা রাখন যায় না। উপরেরতন নাইমা রেলগেটের দিকে কুমিল্লার বাসে উইটতে চাইছিলাম। তিনবার তিন দিক দিয়া ঢুইকাও ফিরা আইছি। কালা কালা কাচরা পানি। পরে দুইন্নাই (অনেক পথ) ঘুইরা মসজিদের সামনে আইলাম। এইহানেও পানি আর গন্ধ!’ বলছিলেন কুমিল্লা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আত্মীয়কে দেখতে আসা সাব্বির রহমান। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসা যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই হচ্ছে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ঢাকায় প্রথমবার আসা মানুষের রাজধানী সম্পর্কে তৈরি হচ্ছে বিরূপ ধারণা। বাস থেকে নেমেই দেখছে কালো পানির ঢাকা। যেখানে দুর্গন্ধ থেকে নাকে হাত দিয়ে বাঁচতে পারলেও চলতে হচ্ছে ময়লা পানির ওপর দিয়ে। টার্মিনালের কোনো কোনো অংশে হাঁটুসমান পানিও জমে থাকতে গেছে ভঙ্গুর নিষ্কাশন (ড্রেনেজ) ব্যবস্থার কারণে। দেখা যায় বৃষ্টি না হলেও টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের অনেক স্থান যেন ময়লার ভাগাড়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণেই ধীরে ধীরে সায়েদাবাদ টার্মিনাল ক্রমে ময়লায় ঢেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমোদন দেওয়া ৭৫টি দোকানের পাশাপাশি অবৈধ প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানের ময়লা-আবর্জনা এবং আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা যত্রতত্র ফেলায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ডিএসসিসির অঞ্চল-৫-এর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত এ গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের দিকে নজর নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরও। এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে কাউন্সিলর আবুল কালাম দায়সারা জবাব দিয়ে বলেন, ‘টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ সব কিছু দেখে। এখানে আমার কিছু করার নাই। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা বলতে পারেন।’

পরে এ বিষয়ে ডিএসসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সপ্তাহখানেক আগে এ দায়িত্ব পেয়েছি। সব বিষয়ে জানা নেই। কালই (রবিবার) সায়েদাবাদ টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবস্থা নেব। অনুমোদনের বাইরে কোনো দোকান থাকলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে নামার মুখেই ময়লা পানি জমে আছে। ভেতরের রাস্তায়ও ময়লা পানি। মাঝখানে স্যুয়ারেজ লাইন থেকে ময়লা পানি বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যা মাড়িয়ে যাত্রী-চালক থেকে শুরু করে সবাই চলাচল করছে। টার্মিনালের উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে থাকা আট ইঞ্চির সরু ড্রেন দিয়ে কোনোমতে পানি সরছে।

দেখা যায়, টার্মিনাল মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটু জায়গা ছাড়া পুরোটায় ময়লা পানি। উড়াল সেতুর নিচ দিয়ে সিটি করপোরেশনের গণশৌচাগারের দিকে যেতে চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ। পুরো এলাকা অবৈধ দোকান আর ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি। ওয়াসার পানির টাংকির পাশ দিয়ে সামনে যেতে দুই পাশে টং দোকান। এগুলোর সামনেও কুচকুচে কালো ময়লা পানি জমে আছে। পাশেই রয়েছে (অনুমোদিত) কয়েকটি হোটেল। কে এম দাস লেনে সায়েদাবাদ সুপার মার্কেটের প্রায় ২০টি দোকানের ময়লাও ফেলা হয় সেতুর নিচে। গণশৌচাগারের পাশ দিয়ে সামনে যেতেই মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটির অফিস। এর পাশে দুটি অনুমোদিত হোটেল। জানা যায়, এগুলো সোসাইটির পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। সেখানে মরহুম আ. মান্নান নামের ভাতের হোটেলের মালিক আকবর হোসেন বলেন, ‘আমাগো কোনো টোকেন (সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া অনুমোদন) নাই। অফিসের ভাইয়েরা জানে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা