kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ঝিনাইদহে জমি নিয়ে বিরোধের জের

আপন চাচাকে বন্ধু সাজিয়ে মামলা

৫ ধার্য তারিখে হাজির হননি বাদী

আশরাফ-উল-আলম   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপন চাচা ও চাচাতো ভাইকে বন্ধু সাজিয়ে ঢাকায় প্রতারণার মামলা করে বাদী আর মামলার খোঁজ নিচ্ছেন না। তারিখের পর তারিখ বাদী অনুপস্থিত রয়েছেন। অথচ মামলা চলছেই। ঝিনাইদহের একটি গ্রাম থেকে বাবা আর ছেলে আসামি হিসেবে হাজিরা দিচ্ছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। বাদীর অনুপস্থিতিতে মামলাও শেষ হচ্ছে না। ফলে চরম হয়রানি আর ভোগান্তিতে পড়েছেন বাবা ও ছেলে।

মামলাটি একটি প্রতারণার মামলা। মামলার আরজি আর দাখিল করা কাগজপত্র দেখে আসামির আইনজীবী আদালতের কাছে বারবার প্রার্থনা জানাচ্ছেন, ‘এটি মিথ্যা মামলা।’ আইন অনুযায়ী এই মামলা খারিজ হতে পারে। কিন্তু আদালত আমলে নিচ্ছেন না আসামিপক্ষের বক্তব্য।

মামলাটি ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত-১৭তে বিচারাধীন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। বাদী হাজির নেই। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, গত কয়েকটি তারিখে বাদী হাজির হচ্ছেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারা অনুযায়ী বাদীর অনুপস্থিতির কারণে আসামিদের খালাস দিতে পারেন আদালত। কিন্তু আইনজীবীর বক্তব্য কাজে আসেনি। আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি করেন তাঁদের আইনজীবী মাখন লাল রায়। আবারও আগামী ২৬ এপ্রিল মামলার তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারার মূলকথা হচ্ছে, বাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার শুনানি মুলতবি করা যায়। পরবর্তী সময়ে যদি বাদী হাজির না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের খালাস দিতে পারেন। যদি কোনো কারণে ম্যাজিস্ট্রেটের মনে হয় শুনানি মুলতবি করে আবার তারিখ ধার্য করা প্রয়োজন, তাহলে সেটিও করতে পারেন। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেও বলা হয়েছে, বাদী গরহাজির থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে খালাস দিতে বাধ্য।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাখন লাল রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাদী মিথ্যা মামলা করেছেন, এটা স্পষ্ট; যে কারণে তিনি সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসছেন না। এই মামলা চালু রাখার প্রয়োজন কেন মনে করেন আদালত, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।’

এই মামলার বাদী হচ্ছেন মো. ইকরামুল ইসলাম। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার চাঁচড়া গ্রামের মো. ইমদাদুল হকের ছেলে। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাদী তাঁর বর্তমান ঠিকানা মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া বলে উল্লেখ করেন। মামলায় আসামি করা হয়, একই গ্রামের মো. আসাদুর জামান ও তাঁর বাবা মো. রবিউল ইসলামকে। তাঁদের ঢাকায় কোনো ঠিকানা নেই।

বাদী মামলার অভিযোগে বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যাবসায়িক বন্ধু। আসামিরা বন্ধুত্বের কারণে বাদীর কাছ থেকে প্রায়ই টাকা ধার নেন। এভাবে বিভিন্ন তারিখে বাদীর কাছ থেকে আসামিরা মোট পাঁচ লাখ টাকা নেন। ২০১৬ সালের ৩০ মে ওই পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য আসামি রবিউল ইসলাম ইসলামী ব্যাংক, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শাখার একটি চেক দেন। কিন্তু ওই চেক আসামিদের কথায় আর ব্যাংকে জমা দেননি। কিন্তু আসামিরা টাকাও দেননি। প্রতারণামূলকভাবে বাদীর টাকা আত্মসাৎ করার জন্য বাদী এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, যে চেকটি বাদী দাখিল করেছেন, ওই চেকে ২০১৬ সালের ৩০ মে তারিখ উল্লেখ আছে। ইসলামী ব্যাংকে ওই বছর এই ধরনের চেকই ছিল না। এই চেকটি অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রমের আগের চেক। চেকে আসামি রবিউলের যে স্বাক্ষর তা-ও অস্পষ্ট।

আসামি রবিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই চেকে আমার স্বাক্ষর নেই। বাদী স্বাক্ষর জাল করে মামলা করেছে।’ তিনি জানান, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অনেক আগেই তিনি ক্লোজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাদী আমার আপন ভাতিজা। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে ঢাকায় এসে এই মামলা করেছে; কিন্তু আদালতে হাজির হচ্ছে না।’ রবিউল জানান, তিনি ও তাঁর ছেলে এই মামলার আগে কখনো ঢাকায় আসেননি। এখন একটি মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে দিতে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা