kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যরাতে ছাত্রলীগে সংঘর্ষ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যরাতে ছাত্রলীগে সংঘর্ষ

একজনকে মারধরের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক ছাত্রকে মারধর করার ঘটনায় গত শনিবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দীর্ঘ সময় সংঘর্ষ চললেও প্রক্টরিয়াল বডি ছিল দর্শকের ভূমিকায়। ঘটনাস্থলে আসেনি পুলিশ প্রশাসনও।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের জেবিয়ারকে বন্ধু ভেবে ডাক দেন আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রলীগকর্মী কামাল। পরে দুঃখ প্রকাশ করলেও কামালকে গালাগাল করে এবং পরে দেখা করতে বলেন জেবিয়ার। কামাল তাঁর বন্ধুদের নিয়ে জিয়াউর রহমান হলে জেবিয়ারের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জেবিয়ারকে মারধর করেন কামাল ও তাঁর বন্ধুরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত এসে ঘটনার সমাধান করেন। জেবিয়ারের ওপর হামলাকারীদের হল থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া হলের ২০৮ নম্বর কক্ষে কামাল অবস্থান করছেন জানতে পেরে জেবিয়ার তাঁর গ্রুপের ইমতিয়াজ, জয়, সালমান, হামজাসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে হামলা চালান। এ সময় কামাল বের না হলে কক্ষের জানালা ভাঙচুর করেন তাঁরা। পরে তাঁরা হল থেকে বের হয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় সাদ্দাম হোসেন হল ও জিয়া হলসহ অন্য হল থেকে কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হন। এরপর জিয়াউর রহমান হলের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সংঘর্ষে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের হিমেল চাকমা নামের এক ছাত্রলীগকর্মী গুরুতর আহত হন। তাঁকে ইবি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। পরে এ ঘটনার জের ধরে জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রলীগকর্মী ইমতিয়াজের ৪১৫ নম্বর কক্ষ ভাঙচুর করে অন্য পক্ষ।

এদিকে সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা। ঘটনাস্থল থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগকর্মীরা। ক্যাম্পাসের মধ্যে থানা হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে ডাকা হয়নি পুলিশকে। শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকি আরাফাত বলেন, ‘প্রথম ঘটনা মীমাংসা করার পরে আবারও তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমরা আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করি।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘প্রথমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনতে পাই সিনিয়র নেতারা সমাধানের চেষ্টা করছে। পরে তারা আবার সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশকে জানানো হয়।’ সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলাম।’

ইবি থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, ‘আমাকে ঘটনার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা