kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

দক্ষিণখানে দুই শিশুসহ মা খুন

জট খোলেনি ৯ দিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর দক্ষিণখানে মা ও দুই শিশুসন্তানের খুনের রহস্য ৯ দিনেও উদ্ঘাটিত হয়নি। এখনো খোঁজ মেলেনি ওই শিশুদের বাবা রকিব উদ্দিনের। তবে পুলিশ এখনো সন্দেহ করছে এই তিন খুনের সঙ্গে রকিব জড়িত। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখনো বলছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ দেখতে পায় ভবনের বাসিন্দারা। সেদিন থেকেই রকিবেরও খোঁজ নেই।

কিন্তু যে কারণে রকিবকে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে সেই পাওনাদাররা এখন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলছেন, তাঁরা রকিবের কাছে কোনো টাকা পান না।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও নিহত মুন্নি রহমানের বড় ভাই মুন্না রহমান জানান, মৃত্যুর আগে রকিব তাঁকে বলেছিলেন অন্তত ২৫ জন তাঁর কাছে প্রায় এক কোটি টাকা পাবেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা করে ধার দিয়েছেন এমন পাওনাদারও আছেন। অথচ স্ত্রী-সন্তানদের লাশ উদ্ধার হওয়ার পর এখন ওই ২৫ পাওনাদারের সবাই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। এমনকি অলি নামে রকিবের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন, যিনি আমাদের বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিলেন টাকার জন্য। তিনি বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে তিন লাখ টাকা ধার করে সেই টাকা রকিবকে দিয়েছিলেন। এখন রকিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অলিও অস্বীকার করছেন রকিবকে তিনি কোনো টাকা ধার দেননি। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, পাওনাদারদের চাপের কারণে রকিব এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে। তবে এখন সেই পাওনাদাররা টাকা ধার দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলছেন, তাঁদের কেউই রকিবকে কোনো ধরনের টাকা ধার দেননি।

খুন হওয়া মুন্নি রহমানের অন্য এক স্বজন বলেন, পাওনাদারদের এমন লুকোচুরিতে তাঁদের সন্দেহ হচ্ছে, তাঁরা রকিবকে সামনে রেখে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে খুইয়েছেন, সেটি  হতে পারে জুয়া কিংবা অন্য কোনো অবেধ ব্যবসা। এখন ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে সবাই টাকা ধার দেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন।

গত শুক্রবার দক্ষিণখানের ৮৩৮ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ রকিব উদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী মুন্নি রহমান ও তাঁদের দুই সন্তান ফারহান উদ্দিন এবং লাইভার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশগুলো উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি নোটবুক ও আলামতের সূত্র ধরে পুলিশ রকিবকে হতাকারী হিসেবে সন্দেহ করে আসছেন। এ ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত সন্দেহ বাড়িওয়ালীকেও সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়িওয়ালী ফাতেমা  বেগম  তাদের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার কিছুই জানি না।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিখোঁজ রকিবকে খোঁজার পাশাপাশি অন্তত ২৫ জন পাওনাদার ও বাড়িওয়ালীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের কাউকে আটক বা  গ্রেপ্তার করা হয়নি। যদিও গতকাল পর্যন্ত এই তিন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা