kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় বক্তারা

আবদুস সালাম নিজেকে সাংবাদিকতার কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাংবাদিক আবদুস সালাম তাঁর সাহসিকতা দিয়ে সাংবাদিকতা করে গেছেন। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শুধু সাংবাদিক না, একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছেন। নিজেকে সাংবাদিকতার কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক আবদুস সালামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদ এ আয়োজন করে।

স্মরণসভায় অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘১৯৫২ সালে যে সম্পাদকীয়র জন্য পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ হয়ে যায় এবং আবদুস সালামের জেল হয়, সেখানে ভয়ংকর কোনো কিছু ছিল না। কিন্তু তিনি কখনো বিচলিত হননি। স্বাধীন বাংলাদেশেও সম্পাদকীয় লেখার জন্য আবদুস সালামকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এটি নিশ্চিত আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আবদুস সালামের সামগ্রিক যে সাধনা সেটিকে শ্রদ্ধার সাথে দেখি। আশা করি তিনি যেভাবে সাংবাদিকতা করে গেছেন, সাংবাদিকরা তা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবেন। তাহলে তাঁর স্মৃতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাংবাদিকরা এখন দলীয় হয়ে গেছেন। তাঁদের মধ্যে দলাদলির সৃষ্টি হয়েছে। যখন সাংবাদিকরা সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলেন, এতে সত্যের মৃত্যু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান বলেন, সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের যত সংগঠন আছে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এটা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই।

আবদুস সালামের কনিষ্ঠ কন্যা রেহেনা সালাম বলেন, ‘আমরা সত্য বলতে পারি না। সাদাকে সাদা বলতে পারি না। কিন্তু আবদুস সালাম তাঁর সাহসিকতা দিয়ে সাংবাদিকতা করে গেছেন।’

ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরামের সঞ্চালনায় এই স্মরণসভায় দ্য নিউ নেশনের সম্পাদক এ এম মোফাজ্জল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিডিপি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

স্মরণসভায় আবদুস সালামের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে দশ মিনিটের তথ্যচিত্র দেখানো হয়। সেখানে তাঁর বেড়ে ওঠা, বাল্যকাল, জীবনসংগ্রাম ও কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা