kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

জাপায় অন্তঃকলহ পিছু ছাড়ছে না

লায়েকুজ্জামান   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাপায় অন্তঃকলহ পিছু ছাড়ছে না

অভ্যন্তরীণ কলহ কাটিয়ে উঠতে পারছে না জাতীয় পার্টি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর নানামুখী চাপে পড়ে জাতীয় পার্টি। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন প্রশ্নে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে জাপা প্রকাশ্যে বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতি দেয়। শেষে শেষ রক্ষা মেলে পার্টির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার অগ্রণী ভূমিকা এবং গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জি এম কাদের) ছাড়ের মানসিকতায়। জ্যেষ্ঠ নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকায় বিভক্তি ছাড়াই শেষ হয় পার্টির জাতীয় সম্মেলন। ভাঙন রোধে দলীয় গঠনতন্ত্রে ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। ওই পদে বসানো হয় রওশন এরশাদকে। চেয়ারম্যান করা হয় জি এম কাদেরকে।

জাতীয় সম্মেলনের পর নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এবং এরশাদের রেখে যাওয়া ‘এরশাদ ট্রাস্ট’ নিয়ে ফের অন্তঃকলহ মাথাচড়া দিয়ে ওঠে।

গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় পার্টি পরিচালনার একক ক্ষমতা পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের হাতে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন একক ওই ক্ষমতা ছিল তাঁর হাতে। সে ক্ষমতা বলেই তিনি ক্ষণে ক্ষণে পার্টির মহাসচিব বদল করেছেন, যাঁকে ইচ্ছা পার্টির পদে বসিয়েছেন, সরিয়ে দিয়েছেন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ না করলেও তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার পার্টির একটি অংশ। তাঁরা নিজেদের রওশনপন্থী বলে পরিচয় দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস্তবতা হলো আমরা পার্টি বিভক্ত করতে চাই না বলে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে সমর্থন দিয়েছি আর রওশন এরশাদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সব সময় এরশাদের সঙ্গে ছিলাম। দুর্দিনেও তাঁকে ছেড়ে যাইনি। জাতীয় পার্টির প্রতি আমাদের দরদ রয়েছে, ভালোবাসা রয়েছে। রওশন বা জি এম কাদের গো-ধরে বসে থাকলে জাতীয় পার্টি ভেঙে যেত।’

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। অবশ্য বেশির ভাগ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রওশন এরশাদ পার্টির ১২ জন নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে জি এম কাদের রওশন এরশাদের ওই অনুরোধ রাখেননি। অবশ্য রওশন এরশাদ কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য কোন নাম জাপা চেয়ারম্যান বা মহাসচিবের কাছে পাঠিয়েছেন, এমন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ১২ জন নেতার নামসংবলিত রওশন এরশাদ স্বাক্ষরিত একটি তালিকা বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কাছ জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘রওশন এরশাদের কাছ থেকে এমন কোনো চিঠি আমি পাইনি।’

এদিকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতারা বলছেন, জি এম কাদের একটি সিন্ডিকেটের কাছে বন্দি। সিন্ডিকেটের পরামর্শে অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে বাদপড়া নেতা মিজানুর রহমান দুলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশা করেছিলাম জি এম কাদের জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে পারবেন, এখন দেখছি তিনি একটি সিন্ডিকেটের কাছে বন্দি।’ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদপড়া নেতারা বলছেন, জাতীয় পার্টির ৭৬টি সাংগঠনিক কমিটি থাকলেও শুধু ঢাকা থেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া হয়েছে ৫১ জনকে।

রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হলেও এ পর্যন্ত তিনি পার্টির কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি। উপস্থিত থাকেননি জাতীয় সম্মেলনেও। নতুন কমিটি গঠনের পর দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের।

আবার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টির ফলাফল খুবই হতাশাজনক। সদ্য শেষ হওয়া মেয়র নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গণফ্রন্টের চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একা নির্বাচন করেছি। পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামলে ভালো ফল আসতে পারত।’

অন্তঃকলহের বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি বড় দল। অনেকেরই প্রত্যাশা থাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার। তবে বাস্তবতা হচ্ছে যাঁরা দলের জন্য অপরিহার্য, কেবল তাঁদেরই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া হয়। এ নিয়ে ছোটখাটো ক্ষোভ থাকতে পারে। এটা বড় কিছু না। একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা