kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

মোবাইল ফোনে সম্পর্ক

দেখা করতে গিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হলো কিশোরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্প্রতি বগুড়ার এক যুবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীর। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সপ্তাহখানেক আগে সে ওই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে বগুড়া যায়। কিন্তু দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাকে। ধর্ষণের পর তাকে মধ্যরাতে সড়কে ফেলে রেখে চলে যায় ওই যুবক। ওই কিশোরী এখন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর অভিযুক্ত ‘শুভ’ পুলিশের হেফাজতে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মেয়েটি ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। চোখেও কম দেখে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সে ওই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে স্কুলের নাম করে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু তার কাছে ফোন ছিল না। সে যে ফোনে কথা বলত, সেটি তার মায়ের। বগুড়া গিয়ে মেয়েটি একজনের ফোন থেকে শুভর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর দুজনের দেখা হয় শহরের মাটিডালি মোড়ে। শুভ একপর্যায়ে তাকে বেড়ানোর কথা বলে বগুড়ার মহাস্থানগড় নিয়ে যায়। এভাবে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর সে মেয়েটিকে নিয়ে নিজের এলাকা বগুড়া সদরের গোকুল এলাকার এক জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তাক্ত মেয়েটিকে নিয়েই সে অন্ধকারে কিছুক্ষণ জঙ্গলের মধ্যে ঘোরাঘুরি করে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় শুভ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি হাসপাতালে যেতে বলে। তখন মেয়েটিকে নিয়ে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মাটিডালি মোড়ে রেখে শুভ পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মধ্যরাত পার হয়ে গেছে।

পুলিশ জানায়, মাটিডালি মোড়ের লোকজন রক্তাক্ত মেয়েটিকে দেখে থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মামলা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর গ্রেপ্তার করে শুভকে। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তার আসল নাম শুভ নয়; মাফিউল ইসলাম স্বপন। সে সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মেয়েটি চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। আরো কিছুটা সুস্থ হলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা