kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

মেয়াদ শেষ ২৩ মার্চ

ডাকসুর নতুন নির্বাচন নিয়ে নড়াচড়া নেই!

রফিকুল ইসলাম ও হাসান মেহেদী    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাকসুর নতুন নির্বাচন নিয়ে নড়াচড়া নেই!

২৮ বছরের বন্ধ্যত্বের পর ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এই সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষপ্রান্তে। চলতি বছরের ২৩ মার্চে পূর্ণ হচ্ছে ডাকসুর এক বছর মেয়াদ। তবে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা তেমন কোনো আলোচনাও নেই।

সূত্র জানায়, ডাকসুর নতুন নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারো ভাবনা নেই। এতে নতুন নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জাগছে অনেকের মনে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, নতুন নির্বাচনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরে জানানো হবে। ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যেও নতুন নির্বাচন নিয়ে কোনো নড়াচড়া নেই। ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলছেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ও ছাত্রলীগের আগ্রহ নেই।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬(সি) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিয়ন ৩৬৫ দিন দায়িত্ব পালন করবে। কোনো কারণে নির্বাচন না হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ৯০ দিনের কম সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন হলে এই ইউনিয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। গঠনতন্ত্রের ৫(এ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি বা উপাচার্য ইউনিয়নের স্বার্থে সংসদ ভেঙে দিতে পারবেন। নতুন নির্বাচনের জন্য পুরো নির্বাহী সংসদকে ভেঙে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারবেন তিনি। সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউনিয়নকে সাসপেন্ড করতে পারবেন। ৮(ই) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ডাকসুর সভাপতি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচনের দিন, তারিখ ও ভোটগ্রহণের সময় ঠিক করে সবাইকে জানাবেন।’

১৯৯০ সালে ডাকসু নির্বাচনের মেয়াদকালের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়। আওয়ামী লীগ চলতি মেয়াদে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ২৫টি পদের ২৩টিতে জিতেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ। আর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল থেকে ভিপি পদে নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা পদে আখতার হোসেন নির্বাচিত হন।

নতুন নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেয়াদ শেষের দিকে বিষয়টি আমরা দেখব। এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে জানানো হবে।’

ভিপি নুরুল হক নুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, ১০ মাস শেষ হতে চললেও নতুন নির্বাচনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। গত বছর নির্বাচনের সময় তফসিল ঘোষণা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড করা হয়; কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নতুন নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনের আগ্রহ নেই। ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যেও নতুন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই। এটি ভালো লক্ষণ নয়। দীর্ঘদিন পর ছাত্ররাজনীতি আশার আলো দেখেছে; কিন্তু সেটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো জাতির জন্য কলঙ্কের হবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের ভয়ে কথা বলতে পারত না; এখন কথা বলছে। তবে ছাত্রলীগ চায় না শিক্ষার্থীরা কথা বলুক। ডাকসু নির্বাচন হলে ছাত্রলীগের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। তাই প্রশাসন ও ছাত্রলীগ আর ডাকসু নির্বাচন চায় না।’

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বর্তমান তৎপরতা দেখে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমি সন্দিহান। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম ডাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডার ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। পরিবেশ পরিষদের সভার বিষয়েও কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা শিগগিরই নতুন নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেব।’

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। আমরা চাই ডাকসু সচল থাকুক। নির্বাচন হলে ছাত্রলীগ অবশ্যই অংশ নেবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা