kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ফের ভাঙনের মুখে বাসদ!

দলটির ভাঙন এখন সময়ের ব্যাপার

তৈমুর ফারুক তুষার    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের ভাঙনের মুখে বাসদ!

বারবার ভাঙছে বাসদ। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কয়েক দফা ভাঙনের পর এখন আবারও ভাঙনের মুখে দলটি। সাত বছর আগে মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়া বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে এক পক্ষ অপর পক্ষের ১৬ নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন দলের প্রভাবশালী নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তীও।

এ বিষয়ে বাসদ (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটাকে দলে ভাঙন বলা যায় না। কিছু কর্মী-সংগঠক কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য শুভ্রাংশুর নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে আমাদের দল একটি পেটি বুর্জোয়া দল। যদি তারা এটাকে পেটি বুর্জোয়া দল বলে, তাহলে তো তারা এ দল করতে পারে না। যারা একটি বিপ্লবী দলকে পেটি বুর্জোয়া দল মনে করে, তাদের সঙ্গে তো আমরা রাজনীতি করতে পারব না। আমরা তাদের অনেক সময় দিয়েছি, বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছি, কর্মিসভা করেছি। মত প্রকাশে কোনো বাধা দিইনি। তার পরও তারা তাদের ভুল বক্তব্য, অমার্ক্সবাদী চিন্তা থেকে সরে আসেনি। তারা আমাদের কমরেডদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। ফলে আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিই। তারা সন্তোষজনক উত্তর না দেওয়ায় বহিষ্কার করা হয়।’

বহিষ্কার করা ১৬ জনের মধ্যে শুভ্রাংশ চক্রবর্তীর নাম না থাকা প্রসঙ্গে মুবিনুল হায়দার বলেন, ‘শুভ্রাংশু চক্রবর্তীকে বলেছিলাম, আপনি চলমান সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোথাও মিটিং করবেন না; কিন্তু তিনি তা করছেন। ফলে তাঁকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে হবে। এরপর তিনি যদি ভুল স্বীকার করে উত্তর না দেন, তবে তাঁকেও বহিষ্কার করব।’

দলের কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশে পার্টি কমরেডদের কাছে যাব, দলের অভ্যন্তরীণ যে পরিস্থিতি তা ব্যাখ্যা করব। যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটিতে উনারা (মুবিনুল হায়দার ও তাঁর অনুসারীরা) সংখ্যাগরিষ্ঠ, সুতরাং তাঁরা যাকে খুশি বহিষ্কার করতে পারেন। আমাদের কমরেডরা খুব সহজ একটি দাবি তুলেছে। তারা বলেছে, যেহেতু এত দিন ধরে একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে ওঠেনি, সে জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে একটি বিপ্লবী দল গড়ে তুলি। এটাই হয়েছে কমরেডদের অপরাধ। আমরা একটি বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার জন্য মুবিনুল হায়দারদের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা বিষয়টিকে অন্যভাবে নিলেন।’

শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করছি তারা এটার জন্য খুবই দুঃখিত।’ তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশে বামমনা যে মানুষগুলো আছে, তাদের মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করল। কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। আমরা তো বেরিয়ে আসিনি। আমরা ওখানে থেকেই লড়াইটা করতে চেয়েছি। কিন্তু আমরা পারলাম না। এটা আমরা জনগণকে বলব এবং তাদের কাছে ক্ষমা চাইব।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারার ভিত্তিতে দল পরিচালনা করা নিয়েই বাসদের অভ্যন্তরে মতাদর্শগত তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের কারণেই ২০১৩ সালে খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাসদ থেকে বেরিয়ে আলাদা বাসদ গড়েন মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ও শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা