kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

দারিদ্র্য দূরীকরণে চার উদ্যোগ সমবায়ের

মোশতাক আহমদ   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দারিদ্র্য দূরীকরণে চার উদ্যোগ সমবায়ের

দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পেতে সহায়তার জন্য চারটি বড়মাপের ভিন্নধর্মী প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমবায় বিভাগ। এগুলো হচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ডিজিটাল খামার স্থাপন, সমবায় বাজার প্রতিষ্ঠা, গরিবদের বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে তা ব্যবহারের উপযুক্তকরণ।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বগুড়ায় অবস্থিত মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বার্ড পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ধানের চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াই—সবই করতে পেরে দেখেছে যে তাতে ধানের উৎপাদন খরচ অনেক কম। যেখানে সচরাচর খরচ লাগে ১০০ টাকা, এই আধুনিক পদ্ধতিতে লাগছে মাত্র ৬০ টাকা। এভাবে যাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে আসে সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে আধুনিক ডিজিটাল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা হবে। ফার্মের কাজ শেষে কৃষকরা অন্যদেরও উপকার করতে পারবে।

জানতে চাইলে সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এরই মধ্যে দুটি প্রকল্পের জন্য ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরু থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে মূলত কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য। এ প্রকল্পে দুই হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকেও আর্থিক সহায়তা করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় কৃষকরা যেমন তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না, তেমনি ভোক্তাদেরও ওই পণ্য কিনতে হয় কয়েক গুণ দামে। এমন বাস্তবতায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সমবায় বাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অনেক আগের। তবে এখন তৃণমূলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমবায় বাজার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবে। সেটিরই সম্প্রসারণ হচ্ছে ইউনিয়ন সমবায় বাজার।

সমবায় সমিতিগুলো এসব বাজার পরিচালনা করবে। সারা দেশে সমবায় সমিতি রয়েছে প্রায় দুই লাখ। এর মধ্যে বেশির ভাগই প্রাথমিক সমবায় সমিতি। প্রায় দেড় শটি রয়েছে কেন্দ্রীয় ও জাতীয় সমিতি। এই সমিতিগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সমিতিগুলোর মূলধনের পরিমাণ কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এমন উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগী। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে আবার কৃষি বিপ্লব ঘটবে। এতে কৃষিতে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনি মানুষ ভেজালমুক্ত পণ্যও কিনতে পারবে। ২০১১ সালে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং সমবায় অধিদপ্তর সারা দেশে ৮৪টি সমবায় বাজার স্থাপন করে। পরে এই বাজারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে সারা দেশে সমবায় বাজারের সংখ্যা চার শর কাছাকাছি। সামনে উপজেলাসহ জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও বসানো হবে এ ধরনের বাজার।

সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক আহসান কবীর জানান, বাজারগুলোর মূল উদ্দেশ্য পরিপালন করা সম্ভব হয়নি। কারণ তদারকি ব্যবস্থায় তেমন নজরদারি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নতুন কিছু করা সম্ভব। তিনি বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা তৈরি হলে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।

সরেজমিনে রাজধানীতে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ দোকানের চেয়ে পণ্যভেদে দুই থেকে ১৫ টাকা কমে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করছে সমবায় বাজার। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে। সূত্র জানায়, সমবায় অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে দেশে পণ্য উৎপাদনকারী সমবায়গুলোর সঙ্গে বিপণনকারী সমিতিগুলোর সরাসরি সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এতে লাভবান হবে উৎপাদক কৃষকরা। কারণ তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি দোকানে বিক্রির সুযোগ পাবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে লাভবান হবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা