kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

হুইলচেয়ারে চেপে শহীদ মিনারে এলেন ভারতের সন্ধ্যা রানী

মাসুদ রানা    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হুইলচেয়ারে চেপে শহীদ মিনারে এলেন ভারতের সন্ধ্যা রানী

৬৮ বছর পর গতকাল হুইলচেয়ারে করে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছিলেন ভারতের সন্ধ্যা রানী। ছবি : কালের কণ্ঠ

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের সেই দিনের কথা বাঙালি জাতিকে নাড়া দেয়। নাড়া দেয় সন্ধ্যা রানী নাগকেও। দেশ বিভাগের আগে তিনি এ দেশেরই মানুষ ছিলেন। দেশ বিভাগের পর তিনি থেকে যান ভারত অংশে। দীর্ঘ বছর এ দেশে না এলেও এ দেশের মায়া ভুলতে পারেননি।

সন্ধ্যা রানী একা চলাফেরা করতে পারেন না। ৬৮ বছর পর হুইলচেয়ারে করে এই প্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এলেন। শ্রদ্ধা জানাতে এসে নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সন্ধ্যা রানী বলেন, ‘মাতৃভাষা দিবসে কেন এসেছি বোঝাতে পারব না। সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’ এ সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘একই বাংলা দুই ভাগ হয়ে গেছে। আমরা দুই ভাগে আছি। কত কষ্ট, বোঝাতে পারব না। সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার মানুষ থাকলেও এ দেশের মানুষ বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। তাদের অবদান কখনো ভুলতে পারব না।’

তাঁর ছেলে বরুণ নাগ বলেন, ‘মায়ের ইচ্ছা ছিল, বাংলাদেশে এসে মাতৃভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এই উদ্দেশ্যে মাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা।’

অন্যদিকে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হুগলি সাইক্লিস্ট দলের পক্ষ থেকে ছয়জন সদস্য শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নেতৃত্ব দেন অনুপ রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মহুয়া ব্যানার্জি, অর্পিত দাস, আলমগীর মল্লিক, নিত্য হরি ও সুব্রত।

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন শান্তিপুর পূর্ণিমা মিলনী সংঘের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ১৫ জন বাঙালি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা গেল কলকাতা থেকে আসা আরেক দল বাঙালিকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা